বিশ্বকাপের টিকিটধারীদের জন্য ভিসা বন্ডে সুখবর দিল যুক্তরাষ্ট্র

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ সামনে রেখে কিছু দেশের টিকিটধারী সমর্থকদের জন্য ভিসা বন্ডের বাধ্যবাধকতা মওকুফ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা বিশ্বকাপ টিকিটধারীদের আর অস্থায়ী মার্কিন ভিসার জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলারের বন্ড দিতে হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড নীতির আওতায় থাকা ৫০ দেশের মধ্যে পাঁচটি দেশ ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। দেশগুলো হলো আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে, আইভরি কোস্ট, সেনেগাল ও তিউনিসিয়া। এসব দেশের টিকিটধারী নাগরিকেরা নির্দিষ্ট শর্তে বন্ড ছাড়ের সুবিধা পাবেন।

তবে এই ছাড় সবার জন্য নয়। যেসব সমর্থক ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট কিনেছেন এবং ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ফিফার ফাস্ট-ট্র্যাক ভিসা প্রসেসিং ব্যবস্থা, ফিফা প্রায়রটি অ্যাপয়ন্টমেন্ট সিডিউলিং সিস্টেম বা পাস-এ যুক্ত হয়েছেন, তারাই এই সুবিধার আওতায় আসবেন।

আরও পড়ুন:  উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থিতা ‘উন্মুক্ত’ রাখতে যাচ্ছে আ.লীগ

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে বৈধ ভ্রমণ সহজ করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে ভিসা বন্ড মওকুফ মানে ভিসা যাচাইয়ে ছাড় নয়। যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহী দর্শকদের নিয়মিত ভিসা স্ক্রিনিং ও ভেটিংয়ের মধ্য দিয়েই যেতে হবে।

আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হবে ২০২৬ বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি শহরসহ তিন আয়োজক দেশে হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে প্রায় এক কোটি দর্শনার্থী আসতে পারে বলে ধারণা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

ভিসা বন্ড নীতি মূলত এমন দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য চালু করা হয়েছে, যাদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও থেকে যাওয়ার হার বেশি বলে দাবি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ৫ হাজার, ১০ হাজার বা ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড নির্ধারণ করা হয়। ভিসার শর্ত মেনে সময়মতো যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লে বা ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান হলে সেই অর্থ ফেরত দেওয়ার কথা।

আরও পড়ুন:  ১০ লাখ অভিবাসীকে ‘শিগগিরই’ যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশ ট্রাম্পের

এর আগে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলগুলোর খেলোয়াড়, কোচ ও সাপোর্ট স্টাফদের জন্যও বন্ড শর্তে ছাড় দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই ছাড়ের আওতা সীমিতভাবে সমর্থকদের দিকেও বাড়ানো হলো। ফিফা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও হোয়াইট হাউস টাস্কফোর্সের সঙ্গে সমন্বয়ের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

তবে অভিবাসন ও ভ্রমণনীতি নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটছে না। বিশ্বকাপে খেলা কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ওপর এখনও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা বা বিধিনিষেধ রয়েছে। আইভরি কোস্ট ও সেনেগালও এমন বিধিনিষেধের আওতায় আছে। হাইতি ও ইরান বিশ্বকাপে জায়গা পেলেও তাদের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। দলীয় সদস্যদের জন্য ছাড় থাকলেও সাধারণ সমর্থকদের ক্ষেত্রে সেই ছাড় নেই।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোও যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ দেখতে যাওয়া সমর্থকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। তাদের অভিযোগ, নজরদারি, অভিবাসন অভিযান, আটক বা বহিষ্কারের ঝুঁকি নিয়ে ফিফা, আয়োজক শহর বা মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। হোয়াইট হাউস অবশ্য এসব সতর্কতাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভয় দেখানোর কৌশল বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *