বাংলাদেশে হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের বড় কারণ হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে টিকার ঘাটতি এবং নিয়মিত টিকাদানের দুর্বলতাকে অন্যতম বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। টিকাদানে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অর্জন ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
গত ২৩ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রকাশ করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে হামের সংক্রমণ স্পষ্টভাবে বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, টিকা না পাওয়া ও অপর্যাপ্ত টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে হামের ব্যাপক সংক্রমণ দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুতর সংকটের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয় হাম ও হাম উপসর্গে যেসব শিশুর মৃত্যুর তথ্য আসছে তাদের বেশিরভাগই ২ বছরের কম বয়সী এবং টিকা পায়নি। বাংলাদেশে বর্তমান প্রাদুর্ভাব এমন পরিস্থিতিতে ঘটছে, যখন জনগোষ্ঠীর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা পর্যাপ্ত নয়। আক্রান্তদের বড় অংশ হয় টিকাবিহীন ছিল, নয়তো মাত্র এক ডোজ টিকা পেয়েছিল। আক্রান্তদের ৯১ শতাংশের বয়স এক থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। এটি এই বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার বড় ঘাটতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এ ছাড়া কিছু শিশু ৯ মাস বয়সের আগেও আক্রান্ত হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, হাম ভাইরাসজনিত একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। এটি সব বয়সের সংবেদনশীল ব্যক্তিকে আক্রান্ত করতে পারে। রোগটি বিশ্বজুড়ে শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। সাধারণত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু (বিশেষত যাদের ভিটামিন এ ঘাটতি রয়েছে) এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ শক্তির মানুষের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। হামের সাধারণ জটিলতার মধ্যে রয়েছে শ্রবণশক্তি হ্রাস, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও অন্ধত্ব। গুরুতর জটিলতার মধ্যে রয়েছে এনসেফালাইটিস, মস্তিষ্কের ক্ষতি এবং মৃত্যু।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা হুঁশিয়ার করে বলেছে, দ্রুত নজরদারি জোরদার, রোগী শনাক্তকরণ ও টিকাদানের মাধ্যমে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করা না হলে সংক্রমণ আরো ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।







