যুক্তরাষ্ট্রে চীনা বংশোদ্ভূত একটি আক্রমণাত্মক পিঁপড়ার প্রজাতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। এ নিয়ে জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চীন থেকে উৎপত্তি হওয়া ছোট আকারের এই পিঁপড়ার নাম ‘এশিয়ান নিডল অ্যান্ট’। গাঢ় বাদামি থেকে কালচে রঙের এই পিঁপড়াটি আকারে খুবই ছোট—দৈর্ঘ্যে এক পঞ্চমাংশ ইঞ্চির বেশি নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২০টি অঙ্গরাজ্যে এর উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, টেক্সাস, নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া, এমনকি উত্তরের ম্যাসাচুসেটস ও উইসকনসিনও।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এই প্রজাতিটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম শনাক্ত হয়েছিল প্রায় ৯০ বছর আগে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর সংখ্যা ও বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
সাধারণ পিঁপড়ার মতো এরা দৃশ্যমান ঢিবি তৈরি করে না। বরং পাতা, পচা কাঠ এবং বনাঞ্চলের মাটির নিচে বাসা তৈরি করে, ফলে মানুষের সঙ্গে অজান্তে সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বেশি থাকে।
এই পিঁপড়ার কামড়ে তীব্র ব্যথা হয়, যা কয়েক ঘণ্টা শরীরে স্থায়ী হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা কামড়ের জায়গা ছাড়িয়ে শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অ্যালার্জি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এটি অ্যানাফাইল্যাক্সিস নামের মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যা জীবনঘাতীও হতে পারে। এমনকি এদের হুল মানুষের পোশাক ভেদ করতেও সক্ষম।
হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ বেনোয়া গুয়েরনার্ড বলেন, ‘ভাবুন তো, কেউ আপনার শরীরে সরাসরি সূচ ঢুকিয়ে দিচ্ছে- এটাই এই ব্যথার অনুভূতি। এটি খুব তীক্ষ্ণ ও তীব্র, তবে সাধারণত নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে।’
যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) জানিয়েছে, এই ব্যথা সাধারণত কয়েক ঘণ্টা ধরে ওঠানামা করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পিঁপড়া স্বাভাবিকভাবে আক্রমণাত্মক নয়। কেবল হুমকি অনুভব করলে এটি কামড়ায় বা হুল ফোটায়। তবে এটি ফায়ার অ্যান্টের মতো ব্যাপক জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে না।
তবুও যারা বাইরে কাজ করেন, তাদের জন্য সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্লাভস ব্যবহার এবং পিঁপড়ার উপস্থিতি টের পেলে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইউএসডিএ আরও জানিয়েছে, অন্যান্য অনেক আক্রমণাত্মক প্রজাতির মতো এশিয়ান নিডল অ্যান্ট এখন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি







