কূটনীতির পথ কখনো বন্ধ হয় না: ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শান্তি আলোচনা কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়া সত্ত্বেও কূটনীতির পথ খোলা রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। রোববার (১২ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই অবস্থান ব্যক্ত করেন। 

ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক শেষে মার্কিন প্রতিনিধি দল ফিরে যাওয়ার পর যখন আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তখন বাঘায়ি স্পষ্ট করে বলেন যে, ‘কূটনীতি কখনোই শেষ হয়ে যায় না’। তাঁর এই বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে বর্তমান সংকট নিরসনে তেহরান এখনো আলোচনার টেবিলে থাকার পক্ষে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বিবৃতিতে বাঘায়ি উল্লেখ করেন, কূটনৈতিক কাঠামো মূলত জাতীয় স্বার্থকে সুরক্ষিত এবং সংরক্ষিত করার একটি প্রধান হাতিয়ার। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের জনগণের অধিকার এবং জাতীয় স্বার্থ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই তাঁদের প্রতিনিধি দল নিবিড়ভাবে আলোচনা চালিয়েছে।

আরও পড়ুন:  হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলো ইরান

কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত না হলেও এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান বিশ্বদরবারে তুলে ধরা সম্ভব হয়েছে বলে ইরান মনে করছে। বাঘায়ির মতে, প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও সংলাপ চালিয়ে যাওয়া একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল আচরণেরই বহিঃপ্রকাশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন, চলমান সংকট সমাধানে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর ইরান বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ইরান, পাকিস্তান এবং বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক পরামর্শ ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।’

ইসলামাবাদের এই আলোচনায় পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যে ভূমিকা পালন করেছে, তাকে ইরান ইতিবাচকভাবে দেখছে এবং প্রতিবেশীদের সাথে নিয়ে একটি টেকসই শান্তি কাঠামো তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনা শেষে তেহরানকে ‘শেষ প্রস্তাব’ দিলেও ইরান সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান না করে কূটনীতি চালিয়ে যাওয়ার কথা বলে কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলোকে ‘অযৌক্তিক’ দাবি করা এবং অন্যদিকে আলোচনার দরজা খোলা রাখা মূলত আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি প্রয়াস।

আরও পড়ুন:  তারেক রহমানের ট্রাভেল ডকুমেন্ট সমস্যা থাকলে সমাধান করব

আগামী দিনগুলোতে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে ইরানের এই ‘পরামর্শমূলক’ আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন কোনো মোড় নিতে পারে কি না, তা এখন বিশ্ব সম্প্রদায়ের মূল পর্যালোচনার বিষয়।

সূত্র: আল জাজিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *