প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ শামছুদ্দীন : জীবন ও কর্ম

অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান
মগধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ শামছুদ্দীন ১৯৬০ সালের ২৫ আগষ্ট হারামিয়া ৭ নং ওয়ার্ডস্থ শহীদ উল্যাহ কোম্পানির বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা-জনাব শহীদ উল্যাহ কোম্পানি, মাতা-জনাবা রোকেয়া বেগম, সহধর্মিণী-জনাবা আলেয়া বেগম। স্যারের সহধর্মিণী আলেয়া বেগম বি.এ; সি.ইন.এড পূর্ব হারামিয়া জি.এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসাবে কর্মরত আছেন।
পড়ালেখা-শামছুদ্দীন মুছাপুর জুনিয়র অসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৭০ সালে প্রাথমিক পাঠ, পূর্ব সন্দ্বীপ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৭৬ সালে এসএসসি, সরকারি হাজী আবদুল বাতেন কলেজ থেকে ১৯৭৮ সালে এইচএসসি এবং সরকারি হাজী আবদুল বাতেন কলেজ থেকে ১৯৮১ সালে বি.এ পাস করেন।
শিক্ষকতা পেশায় আত্মনিয়োগ-
মধ্য কালাপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯৮৩ সালের ১৫ নভেম্বর তিনি সহকারী শিক্ষক হিসাবে শিক্ষকতা পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। উক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে মগধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলী হয়ে আসেন ১৯৯২ সালে।
প্রধান শিক্ষক হিসাবে পদোন্নতি-
প্রধান শিক্ষক হিসাবে পদোন্নতি পেয়ে ২০০৭ সালে ওমদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ওমদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বদলী হয়ে উত্তর মগধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসেন ২০০৯ সালে। তিনি যখন মগধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগদান করেন তখন বিদ্যালয়টিতে একটি মাত্র জরাজীর্ণ ভবন ছিল। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মাঠের পূর্ব পাশে এল.জি.ই.ডি কর্তৃক নির্মিত হয় ৩য় তলা ভবন। তিনি উক্ত বিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সালের ২৪ আগষ্ট অবসরগ্রহণ করেন। স্যার প্রায় ৩৬ বছর সুনাম এবং দক্ষতার সাথে শিক্ষকতার মহান পেশায় নিয়োজিত ছিলেন।
পেশাগত প্রশিক্ষণ-
তিনি কক্সবাজার পি.টি.আই থেকে ১৯৮৮ সালে সি.ইন.এড কোর্স পাস করেন। তখন যে সকল শিক্ষক বি.এ পাস করা ছিল তাদের কক্সবাজার পি.টি.আই থেকে সি.ইন.এড কোর্স করানো হত। পরে তিনি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি.এড পাস করেন ১৯৯২ সালে।
এলএলবি ডিগ্রি-
১৯৮১ সালে বি.এ পাস করার পর বঙ্গবন্ধু ল’ টেম্পলে তিনি ১৯৮২ সালে ভর্তি হন। ল’ কলেজে তিনি ১ বছর অধ্যয়ন করেন। পরে তাঁর ল’ ডিগ্রি আর সম্পন্ন করা হয়নি।
সামাজিক দায়বদ্ধতা-
সামাজিক দায়বদ্ধতায় শামছুদ্দীন স্যার বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন-করেছেন। যেমন-
১.সাধারণ সম্পাদক, হাজী সুলতান জামে মসজিদ, ৭ নং ওয়ার্ড, হারামিয়া, সন্দ্বীপ (২০২২ থেকে চলমান)।
২.সভাপতি, আলাবক্স মাঝি সমাজ উন্নয়ন কমিটি, ১ নং ওয়ার্ড, মগধরা, সন্দ্বীপ (২০২৫ থেকে চলমান)।
৩.সাবেক সাধারণ সম্পাদক, রাজের গো জামে মসজিদ, ৭ নং ওয়ার্ড, হারামিয়া, সন্দ্বীপ (২০০৪-২০১৭ মোট ১৩ বছর)।
ব্যক্তিগত জীবন-
ব্যক্তিগত জীবনে শামছুদ্দীন স্যার তিন সন্তানের পিতা। তাঁর বড় মেয়ে ডা. নুসরাত জাহান শারমিন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেন্টাল ইউনিট থেকে ২০১৯ সালে বি.ডি.এস পাস করেছেন। তাঁর স্বামী জনাব রিয়াজ উদ্দিন রুবেল খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ২০১৫ সালে এমবিবিএস পাস করেছেন। জনাব রুবেল ৩৫তম বিসিএস এর একজন বিসিএস (স্বাস্থ্য) কর্মকর্তা হিসাবে কর্মরত আছেন।
স্যারের ২য় ছেলে সাজেদুর রহমান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে অনার্স মাস্টার্স সম্পন্ন করে কর্মসংস্থান ব্যাংকের লাকসাম শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসাবে কর্মরত আছেন। তাঁর ৩য় মেয়ে ইসরাত জাহান সাজনিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের I.E.R বিভাগের ইন্সটিটিউট অব এডুকেশন রিচার্স বিষয়ে ৪র্থ বর্ষে পড়ালেখা করছেন।
পবিত্র হজ্জব্রত পালন-
শামছুদ্দীন স্যার সহধর্মিণী সহ ২০২৩ সালে পবিত্র হজ্জব্রত পালন করেন।
তথ্যঋণ: জনাব মুহাম্মদ শামছুদ্দীন স্যার। ছবি ক্লিক: জনাব অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান।
প্লিজ, লেখাটি কপি করলে সূত্র উল্লেখ করুন। এটি করা আপনার নৈতিক দায়িত্ব। কেননা, এই লেখাটি লিখতে আমাকে পরিশ্রম করতে হয়েছে, জীবনের মুল্যবান সময় ব্যয় করতে হয়েছে এবং চিন্তার সমন্বয় করতে হয়েছে।
অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান
বুধবার, ২৫ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৮ এপ্রিল, ২০২৬ ইংরেজি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *