আবু সাঈদ হত্যা মামলা, রায়ে অসন্তুষ্ট পরিবারের সদস্যরা

শহীদ আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার মামলার রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, আবু সাঈদ হত্যার নির্দেশদাতা বড় বড় পুলিশের কর্মকর্তারাই বেঁচে গেছেন। সব আসামির ফাঁসি দাবি করে তিনি বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ছেলের হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে রায় হয়েছে। কিন্তু আমি তখনই শান্তি পাবো যখন এ রায় কার্যকর হবে।
এছাড়া আবু সাঈদের বড়ভাই আবু রায়হান ওই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবার ফাঁসি দাবি করেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী।

তিনি জানান, এই রায়ে কাউকে মৃত্যুদণ্ড আবার কাউকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আবু সাঈদের সহপাঠীরা সন্তোষ প্রকাশ করলেও অনেককে লঘুদণ্ড দেওয়ায় তারা রায় বিবেচনা করার মতামত দিয়েছেন।

আরও পড়ুন:  ডায়াবেটিসের উচ্চঝুঁকিতে ৭০ শতাংশ মানুষ

উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, ঘটনার সময় আমি রংপুরে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলাম না। যার কারণে শহীদ আবু সাঈদের সহপাঠী, ঘটনার সাক্ষী কিংবা যারা ট্রাইব্যুনালে সাক্ষী দিয়েছে তাদের সন্তুষ্টি মানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্তুষ্টি। আবার শহীদ আবু সাঈদের পরিবারের সন্তুষ্টি মানেও এই বিশ্ববিদ্যালয় তথা আমার সন্তুষ্টি।

জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। বাকি ২৮ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আরও পড়ুন:  মোবাইল ইন্টারনেটে ফিরেছে ফেসবুক

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায়। বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এই মামলায় বেরোবির তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে গত ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

রায় ঘোষণার সময় এই মামলায় গ্রেপ্তার ৬ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন- বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

আরও পড়ুন:  সৌদি আরবে পৌঁছেছে বাংলাদেশের প্রথম হজ ফ্লাইট

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া সাঈদের সেই ভিডিওটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *