জামরুল পরিচিত একটি ফল। আম, লিচু, আঙুর, বেদানা, তরমুজ, আনারসের ভীড়ে এ ফল অনেকটা অবহেলিত থাকে। জেনে অবাক হবেন, গরমে জামরুল খেলে অনেক পুষ্টি মিলে। ৯৩ শতাংশ পানি থাকার কারণে এ ফল খেলে শরীর হাইড্রেট থাকে। 

পুষ্টিগুণ 
শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে জামরুলে। প্রচুর পরিমাণে পানি তো আছেই, সেইসঙ্গে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন এ, বি, সি, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম সোডিয়াম, সালফার ইত্যাদি খনিজ উপাদানও রয়েছে। এছাড়া রয়েছে ডায়াটারি ফাইবার ও প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। জামরুল সাদা, লাল দুই ধরনের হয়। যে কোনো রঙের জামরুলই উপকারী।

উপকারিতা 

শরীর ঠান্ডা রাখে, পেট ভালো রাখে
জামরুল শরীরে পানির জোগান দেয়। পর্যাপ্ত ফাইবার থাকায় এটি পেট পরিষ্কারেও সাহায্য করে। হজমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলেও অনায়াসে জামরুল খাওয়া যায়।

আরও পড়ুন:  বর্ণবাদবিরোধী নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার মৃত্যুবার্ষিকী আজ

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উপকারী
গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম থাকার কারণে জামরুল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে না। ফলে এই ফল অনায়াসে ডায়াবেটিক এবং প্রি-ডায়াবেটিকেরাও খেতে পারেন।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
জামরুলে ভিটামিন সি, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, দুই-ই আছে। আছে অন্যান্য পুষ্টি উপাদানও। তাই এ ফল খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকেও শরীরকে বাঁচায় জামরুল।

ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ 
প্রতিদিনের ক্যালসিয়ামের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করতে পারে জামরুল। অস্টিওপোরেসিসসহ হাড়ের বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধ করে এবং হাড় মজবুত করতে ভূমিকা রাখে এ ফল।

ওজন নিয়ন্ত্রণ 
ওজন কমানর জন্য যারা চেষ্টা করছেন, তাদের জন্য এই ফল আদর্শ। কারণ, এতে ক্যালোরির মাত্রা বেশ কম। ১০০ গ্রাম জামরুলে মাত্র ৬০-৬২ কিলোক্যালোরি, ২২.৩ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন সি আছে। এত রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও পটাশিয়াম। এ ফলে থাকা ফাইবার খাবার পরিপাকে সহায়ক।

আরও পড়ুন:  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে তৌহিদ হোসেন

কীভাবে খাবেন? 
জামরুল ধুয়ে এমনিই খাওয়া যায়। তবে স্বাদ বৃদ্ধি করতে চাইলে জামরুল কেটে লবণ, মরিচের গুঁড়া দিয়ে মাখিয়ে নিতে পারেন। যোগ করতে পারেন অল্প কাসুন্দিও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 1 =