দোকান-শপিং মল বন্ধ সন্ধ্যায়, খোলা থাকবে যেসব

স্থিতিশীল জ্বালানি ও বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় সরকার একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। ব্যাংকিং কার্যক্রম চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত, এবং ব্যাংক বন্ধ হবে বিকেল ৪টায়।

এছাড়া, দেশের সব ধরনের শপিংমল ও মার্কেট সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ রাখতে হবে। তবে, জরুরি সেবা যেমন— কাঁচাবাজার, খাবারের দোকান ও ওষুধের দোকান এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল)  রাতে  প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ (ছালেহ শিবলী) এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন:  স্কুলে ভর্তির ডিজিটাল লটারি ১১ ডিসেম্বর

তিনি জানান, সরকারি ব্যয় কমাতে আগামী তিন মাসের জন্য একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে কোনো নতুন যানবাহন, জলযান বা আকাশযান কেনা হবে না। কম্পিউটারসহ নতুন সরঞ্জাম ক্রয়ও বন্ধ রাখা হবে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে এবং সরকারি অর্থায়নে বিদেশে সব ধরনের প্রশিক্ষণ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। সভা-সেমিনারের ব্যয়ও ৫০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে।

জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারি ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ ব্যয়ও ৩০ শতাংশ কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

সচিব জানান, শিক্ষা খাতে নতুন নির্দেশনা আসছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন স্তরের প্রয়োজন বিবেচনা করে রোববার থেকে ধাপে ধাপে নির্দেশনা দিতে শুরু করবে, যাতে শিক্ষাব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।

আরও পড়ুন:  একুশে পদক দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

এছাড়া, পরিবহন খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির পরিবর্তে ইলেকট্রিক বাস চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এতে অংশ নেবে, তারা শুল্কমুক্তভাবে বাস আমদানি করতে পারবে। বেসরকারি খাতেও এই সুবিধা থাকছে, তবে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য হবে। তবে কোনো পুরোনো বাস আমদানি করা যাবে না, শুধু নতুন বাস আনতে হবে।

তিনি জানান, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উৎস থেকেও আমদানি বাড়ানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *