রাশিয়া থেকে জ্বালানি কিনতে অনুমতি চেয়ে চিঠির জবাব দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানিতে অনুমতি চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের দেওয়া চিঠির এখনো জবাব দেয়নি ওয়াশিংটন। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী এমনটিই জানিয়েছেন।

রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি চেয়ে চিঠির অগ্রগতি বিষয় জানতে চাইলে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা জবাব পাইনি।’

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে সার্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

মনির হোসেন বলেন, আমি হিসাব করে দেখেছি- আমাদের পর্যাপ্ত মজুত আছে। কোনো সংকট নেই। ডিজেলের ক্ষেত্রেও কোনো সমস্যা নেই। আমরা মাসভিত্তিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আমদানি করছি। পরিকল্পনা অনুযায়ী তেলবাহী জাহাজগুলো আসছে। এপ্রিল পর্যন্ত আমরা পুরোপুরি নিরাপদ।

এর আগে গত সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র বলেন, আপনারা জানেন রাশিয়া থেকে তেল আমদানির জন্য ইন্ডিয়াকে একটা স্যাংশন ওয়েভার দিয়েছিল (যুক্তরাষ্ট্র), ঈদের আগের দিন আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে সরকারের মিটিংয়ে আমিও ছিলাম। মিটিংয়ে ওনাদের বোঝাতে চেষ্টা করেছি যে, রাশিয়া থেকে যেন আমাদের অন্তত দুই মাসের অথবা ছয় লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আনার অনুমতি দেয়, স্যাংশন ওয়েভার দেয়।

আরও পড়ুন:  পাল্টা জবাবে চীনকেও যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিল যুক্তরাষ্ট্র

ওইদিন মনির হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, সেটা ওনারা (যুক্তরাষ্ট্র) বলেছে চিঠি দিতে, আমরা সেই চিঠিটা দিয়েছি। ঈদের পরদিন (২২ মার্চ) খুব সম্ভবত। এখন আমরা উত্তরের অপেক্ষায় আছি। এটুকুই হচ্ছে এ ব্যাপারে অগ্রগতি।

এদিকে, রাশিয়া থেকে পরিশোধিত ডিজেলসহ অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য কিনতে বাংলাদেশের বিশেষ ছাড়ের অনুরোধ ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে এমন আশ্বাস দিয়েছেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট।

গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশের সংকট নিয়ে আলোচনা করেন।

আজ জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি মুখপাত্র বলেন, জ্বালানি সংকট না থাকলেও এই মুহূর্তে সবার জায়গা থেকে জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া উচিত।

আরও পড়ুন:  ঘুস দুর্নীতি অর্থপাচারে সোনার মানুষ গড়া যায় না: হাইকোর্ট

এদিকে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সারাদেশে সব দোকান, বিপণি বিতান ও শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সংগঠনটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

তবে হোটেল, ফার্মেসি, জরুরি প্রয়োজনীয় সেবার দোকান এবং কাঁচাবাজারকে এ নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *