আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে রাজধানী তেহরান থেকে সরিয়ে একটি বিশেষ ও নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হয়েছে। তেহরানে অবস্থিত তার প্রধান কার্যালয় এবং প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদের অত্যন্ত নিকটবর্তী এলাকায় শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখার পর এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

আজ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে। তেহরানের আকাশসীমায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় এবং খামেনির সদরদফতরের সন্নিকটে ধোঁয়া উড়তে দেখায় নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই নজিরবিহীন হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। তবে দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্টের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, “প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুস্থ আছেন এবং তার কোনো সমস্যা নেই।” স্থানীয় আরও কয়েকটি গণমাধ্যম এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

আরও পড়ুন:  এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা মওলানা ভাসানীর নাতির

প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, তারা তেহরানের আকাশজুড়ে বিকট বিস্ফোরণের আওয়াজ শুনেছেন। তবে এই শব্দগুলো সরাসরি কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে হয়েছে নাকি ইরানের নিজস্ব বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার কারণে ঘটেছে, সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে তেহরানের দক্ষিণ ও পশ্চিম প্রান্তসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা বিবিসি ও এএফপি জানিয়েছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় ও প্রেসিডেন্সিয়াল প্রাসাদের মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কায় দেশজুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সূত্র : বিবিসি ও এএফপি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *