তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর আজ মঙ্গলবার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের পর বেলা সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদীয় দলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে সংসদ নেতা ও দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করা হয়। তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় দলের নবনির্বাচিত ২০৯ জন সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা হর্ষধ্বনির মাধ্যমে তাঁদের প্রিয় নেতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার শীর্ষ দায়িত্ব অর্পণ করেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা দলটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে জানানো হয় যে, জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে শপথ গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের সভায় তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করার প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক লড়াই এবং গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের এই নির্বাচনকে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আজ বিকেলেই জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।

আরও পড়ুন:  মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর হবে দক্ষিণ এশিয়ার সিম্বল

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে আজকের এই সভায় বিএনপি সংসদ সদস্যরা একটি বৈপ্লবিক ও নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। সংসদীয় দলের প্রথম সভা থেকেই তাঁরা ঘোষণা করেছেন যে, জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং রাষ্ট্রীয় কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে বিএনপির কোনো সংসদ সদস্য সরকারিভাবে শুল্কমুক্ত (ডিউটি ফ্রি) বিলাসবহুল গাড়ি গ্রহণ করবেন না। একই সঙ্গে তাঁরা রাষ্ট্রীয় কোটায় কোনো সরকারি প্লটও না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে এমন গণমুখী ও ত্যাগের সিদ্ধান্ত এর আগে কখনো দেখা যায়নি। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, মূলত তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশনায় এবং জনগণের কষ্টার্জিত ট্যাক্সের টাকার অপচয় রোধেই এই কঠোর নৈতিক অবস্থান নিয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা।

এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে শপথ নেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা। শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সংসদ সচিবালয়ের কানিজ মওলার সঞ্চালনায় তাঁরা নিজ নিজ আসনের বিপরীতে স্বাক্ষর করেন। শপথের পর পরই সংসদীয় দলের সভায় অংশ নিয়ে তাঁরা নতুন সরকারের কর্মপরিকল্পনা ও নীতিগত অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া এই সরকার একটি দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসনব্যবস্থা কায়েম করবে বলে বৈঠকে অঙ্গীকার করা হয়। আজকের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে বিএনপি স্পষ্ট বার্তা দিল যে, তারা কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং শাসনতান্ত্রিক সংস্কৃতিতেও আমূল পরিবর্তন আনতে উন্মুখ। পুরো জাতি এখন বিকেলের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় রয়েছে, যখন নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের আনুষ্ঠানিকভাবে অভিষেক ঘটবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *