মার্কিন নৌবহরের কাছে মহড়ার ঘোষণা ইরানের, সহ্য না করার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের

পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে দুই দিনের নৌ–মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এই মহড়ায় ইরানি নৌবাহিনী সরাসরি গোলা নিক্ষেপসহ অন্যান্য অস্ত্র পরীক্ষা করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘোষণা দিল ইরান। এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্রবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইরানের এই ‘অনিরাপদ’ মহড়া সহ্য করবে না।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

হরমুজ প্রণালি মূলত পারস্য উপসাগরের সরু একটি মুখ। মহাকাশ থেকে তাকালে এটিকে বাঁকের মতো দেখায়। এই প্রণালি গিয়ে মিশেছে ওমান উপসাগরে। সেখান থেকে জাহাজগুলো বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে যাতায়াত করতে পারে। এই প্রণালিতে ইরান ও ওমানের আঞ্চলিক জলসীমা থাকলেও এটিকে একটি আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে দেখা হয়, যেখানে সব দেশের জাহাজ চলাচল করতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই জলপথের কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

আরও পড়ুন:  মেয়র হিসেবে শপথ নিতে হাইকোর্টে ইশরাক হোসেনের রিট

ইতিহাসজুড়েই বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ। চীন থেকে সিরামিক, হাতির দাঁত, রেশম ও বস্ত্র এই পথ দিয়েই বিভিন্ন অঞ্চলে যেত। আধুনিক যুগে সুপার ট্যাংকারের আবির্ভাবের পরও এই সরু প্রণালি তেল পরিবহনের জন্য যথেষ্ট গভীর ও প্রশস্ত প্রমাণিত হয়েছে।

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে এমন কিছু পাইপলাইন রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল পরিবহন করা সম্ভব। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) জানিয়েছে, ‘প্রণালি দিয়ে যেসব তেল পরিবহন হয়, তার বেশির ভাগেরই এই অঞ্চল ছাড়ার কোনো বিকল্প পথ নেই।’

এই প্রণালি দিয়ে যে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়, তার বেশির ভাগই যায় এশিয়ার বাজারে। অতীতে এই নৌপথ হুমকির মুখে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বেড়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে গত বছরের জুনে ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু করার সময়ের ঘটনা।

আরও পড়ুন:  'যারা ধর্মের নামে রাজনীতির ব্যবসা করে,তাদের হাতে নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে'

এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীকে (আইআরজিসি) সতর্ক করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে তারা কোনো ধরনের ‘অনিরাপদ’ কর্মকাণ্ড সহ্য করবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক কমান্ড সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী এমন কোনো ‘অনিরাপদ’ কৌশল সহ্য করবে না। এর মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ওপর দিয়ে উড্ডয়ন, কিংবা ইরানি দ্রুতগতির নৌকার এমনভাবে এগিয়ে আসা, যা মার্কিন জাহাজের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করে। সেন্টকম আরও বলেছে, ‘মার্কিন বাহিনী, আঞ্চলিক অংশীদার কিংবা বাণিজ্যিক জাহাজের আশপাশে যেকোনো অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ সংঘর্ষ, উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং অস্থিতিশীলতার ঝুঁকি বাড়ায়।’

একই সঙ্গে তারা যোগ করেছে যে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে প্রশিক্ষিত ও প্রাণঘাতী বাহিনী। তারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে এবং আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন মেনে চলে। ইরানের আইআরজিসিকেও একই কাজ করতে হবে।’

আরও পড়ুন:  এইচএসসির ২২ ও ২৪ জুলাইয়ের স্থগিত পরীক্ষা একই দিনে হবে

ইরান যে সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা করেছে, তা আজ রোববার শুরু হওয়ার কথা। এই মহড়ায় সরাসরি গোলাবারুদ ব্যবহার করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী স্পষ্ট করে বলেছে, এই মহড়ার কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল কোনোভাবেই ব্যাহত হওয়া চলবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *