তুষার গলাতে ‘হট টাব’ নামাল নিউইয়র্ক

গত সপ্তাহের শেষ দিকে আঘাত হানা ঐতিহাসিক শীতকালীন ঝড়ে নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় এক ফুটেরও বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার তুষার জমে যায়। পরবর্তী ঝড়ের আশঙ্কার আগেই জমে থাকা বরফ সরাতে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে নগর কর্তৃপক্ষ।

এই অভিযানে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশালাকৃতির বিশেষ তুষার গলানোর যন্ত্র, যেগুলো ‘স্নো হট টাব’ নামে পরিচিত। প্রতিটি যন্ত্র এক ঘণ্টায় ৬০ থেকে ১২০টন পর্যন্ত বরফ গলাতে সক্ষম।

এই বরফ অপসারণ কার্যক্রমে দিন-রাত মিলিয়ে আড়াই হাজারেরও বেশি নগরকর্মী কাজ করছেন। যদিও উত্তর আমেরিকার অন্যান্য শহর ও বিমানবন্দরে এই ধরনের যন্ত্র নিয়মিত ব্যবহার করা হয়, নিউইয়র্কে এতো বড় পরিসরে এগুলো সর্বশেষ ব্যবহার করা হয়েছিল ২০২১ সালে।

আরও পড়ুন:  এপ্রিলেই তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়াতে পারে, কম বৃষ্টিপাতের শঙ্কা

ঝড় থেমে গেলেও তাপমাত্রা এখনো হিমাঙ্কের নিচে অবস্থান করছে। ফলে স্বাভাবিকভাবে বরফ গলার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসেও তাৎক্ষণিক উষ্ণতার কোনো ইঙ্গিত নেই। রাস্তার পাশে সরিয়ে রাখা বরফ এখনো পথচারী ও যানবাহনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে, যার কারণে দ্রুত বরফ গলাতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্ক সিটি স্যানিটেশন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাভিয়ের লোহান বলেন, ‘আমরা যদি এগুলো গলাতে না পারি, তাহলে বরফ দীর্ঘ সময় সেখানেই পড়ে থাকবে।’

বরফভর্তি ট্রাক থেকে এসব যন্ত্রে বরফ ঢালা হয়।

যন্ত্রগুলো পানিভর্তি থাকে এবং দ্রুত বরফ গলিয়ে ফেলে। গলানোর সময় বের হওয়া বাষ্পের কারণে এগুলো দেখতে অনেকটা জ্যাকুজির মতো মনে হলেও, ভেতরের পানির তাপমাত্রা মাত্র ৩৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।বরফ গলে যে পানি তৈরি হচ্ছে, তা পরিশোধনের পর স্টর্ম ড্রেনে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। লোহান আরো বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো বাস চলাচলের প্রধান রাস্তাগুলো দ্রুত খুলে দেওয়া, যাতে মানুষ নির্বিঘ্নে বাসে উঠতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মস্থল ও স্কুলে যেতে পারে।’

আরও পড়ুন:  ডিম শূন্য ওয়াশিংটনের সুপার মার্কেট

সূত্র : নিউইয়র্ক পোস্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *