ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে মার্কিন নৌবাহিনীর ‘বিশাল বহর’ উপসাগরের পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ‘সম্ভাবনা কম’ বলে তিনিই কিছুদিন আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। খবর রয়টার্স ও এএফপির।

রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে যাত্রা শুরু করা এই বহরে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ বেশ কিছু গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার রয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের দাভোস থেকে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প স্পষ্ট করেন, মূলত সতর্কতা হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই শক্তি ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে না, তবে পরিস্থিতি খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। আমি চাই না কিছু হোক, কিন্তু তাদের ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন:  ২১ দিনে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, জাহাজের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের বিষয়টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপ মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেবে। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে ইরান যে ভয়াবহ দমনপীড়ন চালিয়েছে, তার প্রতিক্রিয়ায় দেশটিতে হামলার হুমকি দেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প যদি ফের ইরানকে সংলাপের জন্য আহ্বান জানিয়ে সেই সংলাপ চলাকালীন অবস্থায় দেশটিতে সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও তা মিত্র ইসরায়েলকে ‘যন্ত্রণাদায়ক’ ও ‘মর্মান্তিক’ পরিণতি ভোগ করতে হবে। এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইরানের শীর্ষ সেনা কমান্ডার মোহম্মদ পাকপৌর। বৃহস্পতিবার এক লিখিত বিবৃতিতে বলেন, আইআরজিসি মনে করে, ইরানে হামলার ব্যাপারে যাবতীয় বিভ্রান্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্র ইসরায়েলের মুক্ত থাকা উচিত।

আরও পড়ুন:  কেন ভেনেজুয়েলায় হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র?

রোষানলে দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকায় গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ব্রিকস জোটের যৌথ নৌ মহড়ায় ইরানের অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে দেশটির অভ্যন্তরে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও ইরানকে এই মহড়ায় অংশ নিতে দেওয়ায় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এখন তীব্র সমালোচনার মুখে। এই ঘটনায় ট্রাম্প প্রশাসনও দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়ে কড়া কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *