আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ধাপের আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে আজ থেকে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বুধবার ২১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবন এবং সারা দেশের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে এই প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতীক হাতে পাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রার্থীরা নির্বাচনী দৌড়ে তাদের স্বতন্ত্র পরিচিতি নিশ্চিত করলেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, প্রতীক পাওয়ার পরদিন অর্থাৎ আগামীকাল ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকেই প্রার্থীরা আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ২৯৮টি আসনে মোট ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কমিশনের তথ্যানুযায়ী, ঢাকা-১২ আসনে এবার সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থীর সমাগম ঘটেছে, যেখানে ১৫ জন প্রার্থী একে অপরের বিরুদ্ধে লড়বেন। এর পরেই রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন, সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ১৩ জন প্রার্থী। অন্যদিকে সর্বনিম্ন দুইজন করে প্রার্থী রয়েছেন কিছু আসনে। তবে এবারের নির্বাচনের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, কোনো আসনেই একক প্রার্থী নেই, ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কোনো সুযোগ এবার থাকছে না।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পূর্ববর্তী ধাপগুলোর পরিসংখ্যান তুলে ধরে কমিশন জানায়, গত ২৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়। সে সময় ৩০০টি সংসদীয় আসনে মোট ২ হাজার ৫৮৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। পরবর্তীতে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত যাচাই-বাছাই শেষে ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয় এবং ১ হাজার ৮৫৮ জন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ ছিল ৫ থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। এই সময়ে ৬৪৫ জন প্রার্থী আপিল করেন এবং ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা শুনানিতে ৪৩১ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান।
তবে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের ক্ষেত্রে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। সীমানা জটিলতার কারণে এই দুটি আসনে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, যদিও ভোটের তারিখ একই রাখা হয়েছে। নতুন তফসিল অনুযায়ী গত ১৮ জানুয়ারি ছিল এই দুই আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাবনা-১ আসনে সাতটি এবং পাবনা-২ আসনে পাঁচটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। আগের তফসিলে বৈধ হওয়া প্রার্থীরা নতুন প্রক্রিয়ায় বাদ পড়বেন বলে জানা গেছে।
ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত। অর্থাৎ প্রার্থীরা আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার কাজ চালাতে পারবেন। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। স্বচ্ছ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে দেশের প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। উল্লেখ্য, এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই সময়ে ভিন্ন ব্যালটে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।







