নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিল এনসিপি

নির্বাচন কমিশন আপিলের রায়ে বিএনপি প্রার্থীদের ‘অন্যায্য ও নিয়মবহির্ভূত সুবিধা’ দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া আজ রোববার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনে বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের আপিল শুনানির রায়ের বিষয়ে জানাতে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে (অস্থায়ী) এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের সংশয়টা আজ আরও স্পষ্ট হয়েছে। এই পরিস্থিতি যদি চলতে থাকে, তাহলে অবশ্যই একটা শংকা তৈরি হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং আরও যারা স্টেকহোল্ডার (অংশীজন) আছে, তারা নির্বাচনে অংশ নেব কিনা সেটা পুনর্বিবেচনার পরিস্থিতি আসতে পারে। তবে আমরা চাই নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হোক। আমরা যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই এবং বাংলাদেশে বহুল প্রতিক্ষীত গণতান্ত্রিক উত্তরণ যেন সঠিকভাবে শেষ হয় সেটাই আমাদের ফার্স্ট প্রায়োরিটি।’

আরও পড়ুন:  এনসিপিতে না যাওয়ার ঘোষণা দিলেন মাহফুজ আলম

সবার সঙ্গে আলোচনার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান আসিফ। তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমরা আমাদের রাজনৈতিক পর্ষদের সঙ্গে বসবো। আগামীকাল (সোমবার) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও দেখা করবো। আমাদের অন্যান্য যারা জোটসঙ্গী আছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আমাদের যেই সহযোগীরা ছিলেন—সবার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে আমাদের সিদ্ধান্ত জানাবো।’

বিএনপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে আসিফ বলেন, ‘আপিল শুনানির শেষ দিনে তারা (বিএনপি) বাইরে মব তৈরি করে রেখেছেন। এক্সটার্নাল প্রেশার তৈরি করে রেখেছেন।’

আসিফ মাহমুদ জানান, রায় ঘোষণার পূর্ব মুহূর্তে নির্বাচন কমিশন ১৫ মিনিটের বিরতির কথা বলে দেড় ঘন্টা সময় নিয়ে বিএনপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে। ওই প্রতিনিধি দলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ছিলেন বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন:  জাকসুর ফলাফল হতে পারে রাত ১০টার পর

তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর দেওয়া রায় কিছুতেই নিরপেক্ষ হতে পারে না। এটা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।

আসিফ মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, বিএনপির অন্তত ২০ জন প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে ইসির বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন না করেই প্রার্থী হচ্ছেন। ঢাকা-১১ আসনে যেখানে এনসিপি আহবায়ক নাহিদ ইসলাম প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সেখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানান আসিফ।

আসিফ বলেন, নির্বাচন কমিশন বিএনপির দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বিধি বহির্ভুতভাবে ছাড় দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম আহবায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন, যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা প্রমুখ।

আরও পড়ুন:  এবি পার্টিকে নিবন্ধন দিয়ে প্রজ্ঞাপন, পেল ঈগল প্রতীক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × five =