ভাসানচর নোয়াখালীর নয়, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের অংশ: ভূমি মন্ত্রণালয়

বঙ্গোপসাগরে জেগে ওঠা দ্বীপ ‘ভাসানচর’-এর মালিকানা চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার নাকি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তা নিয়ে ছিল নানা বিতর্ক। অবশেষে সকল বিতর্কের অবসান শেষে ভাসানচরকে সন্দ্বীপের অন্তর্গত বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ভাসানচরের ছয়টি মৌজা সন্দ্বীপের অন্তর্গত বলে জানিয়ে এমন সিদ্ধান্ত দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
এর আগে ২০১৭ সালে দ্বীপটিকে হাতিয়ার অন্তর্গত দেখিয়ে সরকার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই সময় মানববন্ধনসহ নানাভাবে আন্দোলন করে সন্দ্বীপের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। অবশেষে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের গঠিত কারিগরি কমিটি সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন, ঐতিহাসিক দলিলের মূল্যায়ন ও স্যাটেলাইট থেকে ধারণকৃত ছবি বিশ্লেষণ করে দ্বীপটির ছয়টি মৌজা সন্দ্বীপের অন্তর্গত বলে প্রতিবেদন দিয়ে সীমানা বিরোধ নিরসনে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের গঠিত একটি কারিগরি কমিটি। পরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের জরিপ শাখা সেই মোতাবেক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দিয়ে ১৩ জানুয়ারি সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠায়।
প্রথম দিকে এই চরটি স্থানীয়ভাবে ‘ঠ্যাঙ্গারচর’ নামে পরিচিতি পেলেও ২০১৭ সালের দিকে রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের আলোচনার মধ্যেই সেটির নামকরণ হয় ‘ভাসানচর’। এছাড়া ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ সেখানে ‘ভাসানচর থানা’ গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করে। সেই প্রজ্ঞাপনেও ভাসানচরকে হাতিয়া ও নোয়াখালীর অংশ বলে উল্লেখ করা হলে বিক্ষোভে ফেটে পরেন স্থানীয়রা।
তবে সম্প্রতি সন্দ্বীপের বিভিন্ন স্তরের মানুষের দাবির মুখে আবারো কমিটি গঠন করা হলে পর্যবেক্ষণের পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা ভাসানচরকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার অন্তর্গত দেখিয়ে প্রতিবেদন জমা দেয়। অবশেষে ভাসানচরের মালিকানা ফেরত পাওয়ায় ভীষণ খুশি সন্দ্বীপের সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *