বিবেকই যথেষ্ট, আন্তর্জাতিক আইন দরকার নেই

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তাঁর ক্ষমতার ওপর একমাত্র নিজের নৈতিকতা ও বিবেকের নিয়ন্ত্রণ আছে। বিভিন্ন দেশে হামলা, আগ্রাসন বা চাপ প্রয়োগে সামরিক শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইনসহ অন্যান্য সব ধরনের বিষয়কে তিনি গুরুত্ব দেন না।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এসব কথা বলেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, বৈশ্বিক ক্ষমতার ওপর কোনো সীমাবদ্ধতা আছে কি না? জবাবে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, একটি জিনিস আছে। আমার নিজের নৈতিকতা। আমার নিজের বিবেক। একমাত্র সেটাই আমাকে থামাতে পারে।’ এ সময় ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমার আন্তর্জাতিক আইনের দরকার নেই। আমি মানুষের ক্ষতি করতে চাই না।

এরপর ট্রাম্পকে আবার প্রশ্ন করা হয়, আপনার প্রশাসনকে আন্তর্জাতিক আইন মানতে হবে কি না? জবাবে তিনি বলেন, হ্যাঁ, মানতে হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে সেই সীমাবদ্ধতা প্রযোজ্য হবে কি না, তা তিনি নিজে নির্ধারণ করবেন। এখানে আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞা কীভাবে দেওয়া হচ্ছে সেটি গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন:  পপগুরুর প্রয়াণের ১৩ বছর আজ

সামরিক, অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক শক্তি প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য নিশ্চিত করা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এখন পর্যন্ত সবচেয়ে স্পষ্ট স্বীকারোক্তি এটি। তাঁর মতে, শক্তির সংঘর্ষে আইন, চুক্তি বা কনভেনশনের চেয়ে জাতীয় শক্তিই চূড়ান্ত নির্ধারক হওয়া উচিত।

ভেনেজুয়েলার পর যুক্তরাষ্ট্র কলম্বিয়াতে হামলা চালাতে পারে- এমন হুমকিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন দেশটির প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন নিউইয়র্ক টাইমসকে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন তখনও পেত্রো মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কল করেন। তবে তারা কী নিয়ে কথা বলেছেন তা সাংবাদিককে জানানো হয়নি।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে আলাপচারিতায় ট্রাম্পকে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল। তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাতে হামলার সাফল্যর কথা উল্লেখ করেন। বলেন, ওই অভিযানে ব্যবহৃত বি-২ বোমারু বিমানের একটি মডেল তিনি সবসময় নিজের ডেস্কে রাখেন। তাঁর এই আলাপচারিতায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে তুলে আনা এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে পরিকল্পনার কথাও ওঠে।

আরও পড়ুন:  ৫ মিলিয়ন ডলারে কেনা যাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব, ট্রাম্পের নতুন প্রস্তাব

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ডের ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, চীন ও রাশিয়ার নৌ-তৎপরতার এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। এ অবস্থায় গ্রিনল্যান্ড দখল করতে গেলে ন্যাটোতে বিভাজন তৈরি হতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ, বর্তমানে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রক ডেনমার্ক ন্যাটোর সদস্য। এ নিয়ে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়, আপনার কাছে গ্রিনল্যান্ড নাকি ন্যাটো আগে? এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি উত্তর দেননি। তবে স্বীকার করেন, যেকোনো একটি তো বেছে নিতেই হবে। তবে ন্যাটোতে যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব না থাকে তাহলে এই জোটের কোনো মূল্য থাকবে না।

আন্তর্জাতিক নিয়ম মানার দরকার নেই- এমন যুক্তি ব্যবহার করে চীন ও রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি করতে পারে বলে মনে করেন না ট্রাম্প। তিনি বলেন, তাঁর দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিই চূড়ান্ত নির্ধারক। আগের প্রেসিডেন্টরা রাজনৈতিক আধিপত্য বা জাতীয় স্বার্থ আদায়ে এই শক্তি ব্যবহারে অতিরিক্ত সতর্ক ছিলেন।

আরও পড়ুন:  মার্কিন আমলাতন্ত্রে ১০ হাজার কর্মী বরখাস্ত

গ্রিনল্যান্ডের মতো ভূখণ্ডের মালিকানা কেন দরকার? এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘কারণ আমার মনে হয়, সাফল্যের জন্য মানসিকভাবে এটি প্রয়োজন। আমি মনে করি মালিকানা এমন কিছু দেয়, যা ইজারা বা চুক্তির ক্ষেত্রে সম্ভব নয়। শুধু কোনো নথিতে স্বাক্ষর করে যে সুবিধা পাওয়া যায় না, মালিকানা থাকলে তা পাওয়া সম্ভব।’

নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ট্রাম্পের এই কথোপকথন থেকে একটি বিষয় বেশ স্পষ্ট। তাঁর দৃষ্টিতে সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় সীমানার গুরুত্ব তুলনামূলকভাবে কম। তাঁর কাছে পশ্চিমা বিশ্বের রক্ষক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একক ভূমিকাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

(দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের মূল সাক্ষাৎকার থেকে সংক্ষেপে প্রকাশ)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *