যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড থেকে বাংলাদেশের অব্যাহতির চেষ্টা করব: তৌহিদ হোসেন

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ভিসা ‘বন্ড’ বা জামানত আরোপ হওয়া ৩৮ দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে যুক্ত করার বিষয়টি ‘দুঃখজনক’; তবে এতে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো দায় নেই বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

মার্কিন ভিসা বন্ড আরোপের বিষয়ে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, জানতে চাইলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা মাত্র হয়েছে। আমরা সাধারণ পদ্ধতিতে যাব। চেষ্টা করব যেন এটা থেকে আমাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়।’

তৌহিদ হোসেন বলেন, আমেরিকা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটা শুধু বাংলাদেশের বিষয় নয়, অনেকগুলো দেশের মধ্যে বাংলাদেশও আছে। যেসব দেশের অভিবাসন নিয়ে সমস্যা আছে, সেগুলো এই তালিকায় আছে। আমেরিকায় বাংলাদেশিরা বেশি রাষ্ট্রীয় সহায়তা নেয়।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘তাহলে তারা যদি কিছু দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, সেটার মধ্যে বাংলাদেশ থাকবে— এটা আমার কাছে খুব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। অবশ্যই দুঃখজনক। অবশ্যই কষ্টকর আমাদের জন্য। এটা অস্বাভাবিক না।’

আরও পড়ুন:  ‘স্বতন্ত্র-নৌকা’ বিভেদ ভুলে যাওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অন্তর্বর্তী সরকারের দায় থাকার বিষয়টি নাকচ করে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘যদি সবাই গত এক বছরে যেত, তাহলে আমি বলতাম যে আমরা দায়ী। সমস্যাটা হচ্ছে, যদি এক বছরে হতো, আমি বলতাম এই সরকারের কিছু দায়দায়িত্ব আছে। এই পদ্ধতি চলছে দীর্ঘদিন ধরে। কাজেই, দায়দায়িত্ব যদি আপনি ধরেন পলিসিগতভাবে কারও ওপর থাকে, সেটা হলো পূর্ববর্তী সব সরকারের আছে। সেটাকে আমরা পরিবর্তন করতে পারি নাই, পরিবর্তন করা সম্ভব না। কারণ, মানুষের এই নড়াচড়া করার সাধ্য এই সরকারের নাই, কোনো সরকারেরই ছিল না।’

অন্তর্বর্তী সরকারের অভিবাসননীতি তুলে ধরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘পলিসির দিক থেকে আমি বলতে পারি, প্রথম দিন থেকে আমরা কিন্তু অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছি। একমাত্র সমাধান হবে যদি আমরা অনিয়মিত অভিবাসন বন্ধ করতে পারি। আমাদের এখনো পত্রপত্রিকার খবরে দেখা যাচ্ছে, কেউ ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে মারা গেছে অথবা হাবুডুবু খেয়ে সে উদ্ধার হয়ে এসেছে। সে একজন ভিকটিম, তার প্রতি সব ধরনের সিমপ্যাথি (সহানুভূতি) রয়েছে। পাশাপাশি কিন্তু আইন ভঙ্গ হয়েছে।’

আরও পড়ুন:  ইসরায়েলি লবির সাথে যুক্ত হয়ে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘গ্রামের যে ছেলেটি এখান থেকে ট্যুরিস্ট ভিসা (পর্যটন ভিসা) নিয়ে কেনিয়ায় যায়, তার তো আসলে কেনিয়া-তুরস্কে যাওয়ার সামর্থ্য নাই। এটা আমরা কেন থামাতে পারি না? এটা আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত থামাতে না পারব, ততক্ষণ ভূমধ্যসাগরে মানুষ মরতে থাকবে।’

গত মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদনের ক্ষেত্রে ৩৮ দেশের নাগরিকদের অবশ্যই ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বা জামানত দিতে হবে। শুরুতে গত বছরের আগস্টে ভিসা বন্ডের শর্তযুক্ত দেশের তালিকায় ছয়টি দেশের নাম যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে তারা আরও সাতটি দেশের নাম এই তালিকায় তোলে। এরপর মঙ্গলবার বাংলাদেশসহ আরও ২৫টি দেশের নাম যোগ করে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন:  ভারত-চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখতে হবে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *