ভারতসহ ৩ দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাবে সম্মতি ট্রাম্পের

রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি তেল কেনার অভিযোগে ভারত, চীন ও ব্রাজিল— এই তিন দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব সংক্রান্ত একটি বিলে সম্মতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বৃহস্পতিবার মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্য লিন্ডসে গ্রাহাম এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন এ তথ্য।

বর্তমানে ভারত ও ব্রাজিলের ওপর ৫০ শতাংশ এবং চীনের ওপর ৩০ শতাংশ রপ্তানি শুল্ক জারি আছে। যদি ‘গ্রাহাম-ব্লুমেন্টাল নিষেধাজ্ঞা বিল’ নামের এ বিলটি পাস হয়, তাহলে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সেইসব দেশের উপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হবে যারা জেনেশুনে রাশিয়ান তেল বা ইউরেনিয়াম কিনে ‘রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধযন্ত্রে জ্বালানি’ যুগিয়েছে। এই বিলের আরও একটি উদ্দেশ্য হলো রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দেওয়া।

আরও পড়ুন:  রাশিয়ার দখলে থাকা অঞ্চল ছেড়ে দিতে প্রস্তুত ইউক্রেন!

রিপাবলিকান দলের সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল যৌথভাবে তৈরি করা এই বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, যে রাশিয়া থেকে যেসব দেশ নিয়মিত এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তেল, গ্যাস, ইউরেনিয়াম ও অন্যান্য পণ্য কেনে— তাদের ওপর দ্বিতীয় মাত্রার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তাদের পণ্যের ওপর ধার্য করা হবে কমপক্ষে ৫০০ শতাংশ শুল্ক।

বৃহস্পতিবারের বিবৃতিতে গ্রাহাম বলেছেন, গতকাল বুধবার ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে এই বিলের ব্যাপারে ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা হয় তার। ট্রাম্প এই বিলে সমর্থন জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন গ্রাহাম।

“এটা সঠিক সময়ে পাস হবে। কারণ ইউক্রেন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে অন্যদিকে পুতিন কেবল কথাই বলছেন, আর রাশিয়ার সেনারা এখনও নিরপরাধ লোকজনকে হত্যা করছে”, বিবৃতিতে বলেছেন গ্রাহাম।

আরও পড়ুন:  থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার সংঘর্ষ থামাতে ফোন করবেন ট্রাম্প

তিনি আরও জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই এই বিলটির ওপর মার্কিন এমপিদের ভোটগ্রহণ শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক বিধি অনুসারে, প্রথমে বিলটি যাবে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে। সেখানে পাস হলে সেটি যাবে উচ্চকক্ষ সিনেটে। সিনেটে সবুজ সংকেত মিললে শেষে বিলটি পাঠানো হবে প্রেসিডেন্টের দপ্তরে। সেখানে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের পর বিলটি কার্যকর হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *