ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সমমনা ৮টি দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। তবে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘এটি মূলত একটি নির্বাচনী সমঝোতা, কোনো সামগ্রিক আদর্শিক ঐক্য নয়। এনসিপি তার নিজস্ব লক্ষ্য ও আদর্শ অনুযায়ী কাজ করবে এবং অন্য দলগুলোও তাদের আদর্শ অনুযায়ী চলবে।
রোববার রাজধানীর বাংলামোটর রূপায়ন ট্রেড সেন্টারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন।
এনসিপির এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জোটবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘শরিফ ওসমান হাদির শাহাদাত বরণ এবং তাকে প্রকাশ্যে গুলি করার মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আমরা বুঝতে পারছি যে, বাংলাদেশে আধিপত্যবাদী ও আগ্রাসী শক্তি এখনও কার্যকর রয়েছে। তারা চক্রান্ত করছে এই জুলাই প্রজন্মকে নিঃশেষ করে দেওয়ার জন্য।’
নাহিদ ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা সমুন্নত রাখতে এবং আধিপত্যবাদী শক্তির অগ্রযাত্রা রুখতে এই মুহূর্তে বৃহত্তর ঐক্য প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘আমরা জামায়াতে ইসলামী এবং তাদের সমমনা ৮ দলের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা একটি নির্বাচনী সমঝোতায় পৌঁছেছি এবং একত্রে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এই জোটকে কেবল নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার মাধ্যম নয়, বরং সংস্কার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি। নাহিদ ইসলামের ভাষ্যমতে, ‘দুর্নীতিবিরোধী লড়াই, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে আমাদের এই ন্যুনতম কর্মসূচি থাকবে। জুলাই প্রজন্মকে রক্ষা করতে এবং গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আকাঙ্ক্ষা যাতে ব্যাহত না হয়, সেজন্যই আমরা এই ঐক্যের জায়গায় পৌঁছেছি।’
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির ভেতরে চলমান অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও পদত্যাগের বিষয়েও কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। ৩০ জন নেতাকর্মীর পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যেকোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দ্বিমত বা বিরোধিতা থাকতে পারে। আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কেউ যদি ব্যক্তিগত কারণে দল ত্যাগ করেন, সেটি তার একান্ত সিদ্ধান্ত।’
জামায়াতে ইসলামীর মতো ধর্মভিত্তিক দলের সঙ্গে এনসিপির আদর্শিক পার্থক্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘এটি মূলত একটি নির্বাচনী সমঝোতা, কোনো সামগ্রিক আদর্শিক ঐক্য নয়। এনসিপি তার নিজস্ব লক্ষ্য ও আদর্শ অনুযায়ী কাজ করবে এবং অন্য দলগুলোও তাদের আদর্শ অনুযায়ী চলবে। তবে সংস্কার, ন্যায়বিচার এবং আধিপত্যবাদ বিরোধিতার মতো ন্যুনতম কিছু বিষয়ে আমরা ঐক্যমত পোষণ করেছি।’
এছাড়া, সংস্কারের প্রশ্নে আসন্ন গণভোটে এনসিপি ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জোরালো অবস্থান নেবে এবং সারাদেশে নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি গণভোটের পক্ষেও ক্যাম্পেইন করবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। আগামীকাল (সোমবার) জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে বলেও উল্লেখ করেন এনসিপি আহ্বায়ক।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তবে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব নাহিদা সরোয়ার নিভাকে দেখা যায়নি।







