হাতির বছর ও হাতি বাহিনী নামকরণের ইতিহাস

উম্মে আহমাদ ফারজানা।। 
জাহেলি আরব সমাজ নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী ছিল, যাদের মধ্যে কিছু প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইসলাম এবং নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর মিশনের সূচনার সঙ্গে জড়িত। এই ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত ও স্মরণীয় হলো হাতির বছর। সেই বছরের নামকরণই হয় সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যা আরব ইতিহাসে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। পবিত্র কোরআনেও এই ঘটনার উল্লেখ আছে।
মূলত হাতির বছরের মূল ঘটনা ঘটে যখন আবিসিনিয়ার শাসক আবরাহা‌ আশরাম, সানাআতে একটি বিশাল গির্জা নির্মাণ করেছিলেন। গির্জার নাম ছিল কুল্লাইস। আবরাহা চাইতেন মানুষ তাঁর নির্মিত গির্জায় আসুক, মক্কার পবিত্র কাবার দিকে না যাক। তিনি রাগান্বিত ছিলেন যে তীর্থযাত্রীরা কাবার প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাই তিনি কাবাকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী আবরাহা একটি বিশাল সেনাবাহিনী সাজিয়ে হাতির পিঠে চড়ে মক্কার দিকে রওনা হন। নিজেই মাহমুদ নামক একটি বিশাল হাতিতে চড়েছিলেন। কিন্তু মজার বিষয়, সেই হাতি মক্কার পথে হাঁটু গেড়ে বসে যায় এবং আর উঠতে চায়নি। ঘটনার সময় নবী (সা.)-এর দাদা আব্দুল মুত্তালিব সক্রিয় ভূমিকা নেন।
তাদের চক্রান্ত যেন আপনার শক্তিকে পরাভূত করতে না পারে। যদি আপনি আমাদের কিবলাকে ছেড়ে দিতে চান, তবে যা সর্বোত্তম তা করুন।
এই ঘটনা ঘটে ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে, যা সেই বছরের সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে স্বীকৃত। তাই আরবরা সেই বছরকে নাম দেন ‘হাতির বছর’। আর শত্রুপক্ষ হাতির পিঠে চড়ে মক্কায় আসায় তাদের ‘হাতি বাহিনী’ বলা হয়।এ ঘটনা আরব ইতিহাস এবং বিশেষভাবে আরব উপদ্বীপের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধারণ করে। আর এই ঘটনার পাঁচ বছর পর আল্লাহ ইয়েমেন থেকে হাবশিদের শাসনকে উত্খাত করেন। ফলে আরব উপদ্বীপে তাদের আধিপত্য শেষ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন:  কাল জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড বিতরণ করবেন সজীব ওয়াজেদ জয়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *