সিস্টিন চ্যাপেলে প্রথম ভাষণে যা বললেন পোপ লিও

পোপ চতুর্দশ লিও বলেছেন, তিনি বিশ্বের ১৪ কোটি ক্যাথলিকদের নতুন প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন যাতে গির্জা ‘বিশ্বাসহীনতা’য় ডুবে থাকা অঞ্চলে পৌঁছার জন্য একটি ‘বাতিঘর’ হতে পারে।

সিস্টিন চ্যাপেলে তার প্রথম ধর্মোপদেশে শুক্রবার (৯ মে) লিও বলেন, ‘আপনাদের নির্বাচনের মাধ্যমে ঈশ্বর আমাকে গির্জার একজন ‘বিশ্বাসী পরিচালক’ হিসেবে ডেকেছেন, যাতে এটি ইতিহাসের উত্তাল জলরাশির মধ্য দিয়ে চলা একটি পরিত্রাণের তরণী হতে পারে এবং পৃথিবীর অন্ধকার রাতকে আলোকিত করে তুলতে একটি উজ্জ্বল বাতিঘর হতে পারে।’

ভ্যাটিকানের সম্প্রচার করা ভিডিওতে দেখা যায়, কার্ডিনালদের এক প্রার্থনা-সভায় তিনি বলেন, ‘এমন অনেক প্রতিবেশ আছে যেখানে খ্রিস্টান বিশ্বাসকে মনে করা হয় অযৌক্তিক, দুর্বল ও নির্বোধদের জন্য তৈরি। আবার অন্য কোথাও প্রযুক্তি, অর্থ, সাফল্য, ক্ষমতা বা প্রমোদের মতো অন্যান্য সুরক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন:  ২০২৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পাবে বাংলাদেশ: সারাহ কুক
এমন প্রতিবেশে খ্রিস্টের সুসমাচার প্রচার করা এবং এর সত্যের সাক্ষ্য দেওয়া সহজ নয়। যেখানে বিশ্বাসীদের ঠাট্টা করা হয়, বিরোধিতা করা হয়, ঘৃণা করা হয় অথবা নিদেনপক্ষে সহ্য করা হয় বা করুণা করা হয়।

পেরুর প্রাক্তন মিশনারি এ প্রথম মার্কিন পোপ বলেন, ‘তবু, ঠিক এই কারণেই, এই জায়গাগুলোতেই আমাদের মিশনারি প্রচার পৌঁছা নিদারুণ প্রয়োজন।’

বিশ্বজুড়ে ১৪ কোটি বিশ্বাসীদের ২ হাজার বছরের প্রাচীন প্রতিষ্ঠানের আধ্যাত্মিক প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে কার্ডিনালদের উদ্দেশ্যে লিও এ ভাষণ দেন।

লিও বলেন, ‘বিশ্বাসের অভাব দুঃখজনকভাবে প্রায়শই জীবনের অর্থ হারানো, কৃপা-বঞ্চিত হওয়া, মানবিক মর্যাদার ভয়াবহ লঙ্ঘন, পরিবারিক সংকট ও সমাজকে পীড়িত করে এমন আরও অনেক ক্ষতের সঙ্গী হয়ে থাকে।’

আরও পড়ুন:  এ বছরের বিজয় দিবস বিশেষ কারণে মহা আনন্দের দিন : ড. ইউনূস

তিনি ইভাঞ্জেলিক খ্রিস্টানদের প্রতি একটি স্পষ্ট বার্তায় যীশুকে কোনো ক্যারিশম্যাটিক নেতা বা সুপারম্যানে নামিয়ে আনার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন।

আজও এমন অনেক পরিবেশ রয়েছে যেখানে যীশু একজন মানুষ হিসেবে সমাদৃত হন, তবে এক ধরনের ক্যারিশম্যাটিক নেতা ও সুপারম্যান হিসেবে গণ্য হন।

তিনি বলেন, ‘এটা কেবল অবিশ্বাসীদের মধ্যেই নয়, বরং অনেক ব্যাপ্টাইজড খ্রিস্টানের ক্ষেত্রেও সত্য, যারা এই পর্যায়ে এসে বাস্তব নাস্তিকতায় বসবাস করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *