ভারতে রাজ্যগুলোকে নিরাপত্তা মহড়ার নির্দেশ

নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে নতুন করে সৃষ্ট চরম উত্তেজনার মধ্যেই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আগামী বুধবার কয়েকটি রাজ্যকে ‘শত্রুর আক্রমণের সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে’ বেসামরিক প্রতিরক্ষা কার্যকর রাখার লক্ষ্যে মহড়া আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছে। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি সোমবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

গণমাধ্যমটি বলছে, এই নির্দেশের সময়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। শেষবার এমন মহড়া হয়েছিল ১৯৭১ সালে, যেই বছর ভারত ও পাকিস্তান দুই ফ্রন্টে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

এবার গত ২২ এপ্রিল ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর থেকেই সীমান্তে উত্তেজনা ক্রমেই বেড়ে চলছে। ভারত এ হামলার জন্য সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তানকে দায়ী করেছে। তার পর থেকেই নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পোস্টগুলোতে ১১ রাত ধরে গোলাগুলি করেছে দুই দেশ।ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজ্যগুলোকে সম্ভাব্য শত্রু আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে : বিমান হানার আগাম সতর্কতামূলক সাইরেন চালু করা; সাধারণ নাগরিক, শিক্ষার্থী ও অন্যদের সিভিল ডিফেন্সের বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে শত্রু হামলার সময় তারা নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারে; দ্রুত ব্ল্যাকআউট কার্যকর করার ব্যবস্থা রাখা; গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা স্থাপনাগুলোকে আগাম ছদ্মবেশ দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা; উদ্ধার পরিকল্পনা হালনাগাদ করা ও তার মহড়া চালানো।

আরও পড়ুন:  এফ-১৬ যুদ্ধবিমান দিয়ে কম্বোডিয়ায় হামলা চালাল থাইল্যান্ড
এদিকে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের ফিরোজপুরে গতকাল রাত ৯টা থেকে ৯টা ৩০ পর্যন্ত ব্ল্যাকআউট (বাতি নিভিয়ে রাখা) কার্যকর করা হয়েছিল সেনানিবাস এলাকায়। সেখানে একটি চিঠিতে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের কর্মকর্তা পাঞ্জাব স্টেট পাওয়ার করপোরেশন লিমিটেডকে নির্ধারিত সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।

চিঠিতে বলা হয়, ‘চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ব্ল্যাকআউট প্রক্রিয়া কার্যকর করার প্রস্তুতি ও সক্ষমতা যাচাই করতেই এই মহড়া আয়োজন করা হচ্ছে। এই সময় যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির বৈঠক
পেহেলগাম হামলার পর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ভারত। ২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর দেশটিতে এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা। আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিরক্ষাসচিব রাজেশ কুমার সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যা ঘিরে জল্পনা ছড়িয়েছে যে ভারত কী ধরনের পাল্টা জবাব দিতে পারে। বৈঠকটি চলে প্রায় আধা ঘণ্টা।

আরও পড়ুন:  পুশব্যাকের কারণে ভারতে আশ্রয় নেওয়া আ. লীগ নেতারা বিপাকে

এর আগেই তিনি বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমর প্রীত সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে ইতিমধ্যে আলোচনা সেরেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘এই হামলায় যারা জড়িত এবং যারা পরিকল্পনায় সাহায্য করেছে, তারা এমন শাস্তি পাবে যা কল্পনাও করতে পারবে না।’রাজনৈতিক মহলের বিভিন্ন নেতারাও প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে সুর মিলিয়েছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও গতকাল দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আপনারা যা প্রত্যাশা করছেন, তা অবশ্যই হবে’, যা ভারতের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার দিকেই ইঙ্গিত দেয়।

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক পদক্ষেপ
এদিকে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। এর মধ্যে অন্যতম হলো ১৯৬০ সালের ইন্দাস পানিচুক্তি স্থগিত, যা ১৯৬৫, ১৯৭১ বা ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের সময়ও স্থগিত হয়নি। পাকিস্তানের ভারতীয় দূতাবাসে কর্মরত কূটনীতিকদের সংখ্যাও কমিয়ে আনা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  অবৈধ অভিবাসী নিয়ন্ত্রণে নতুন বিল পাস যুক্তরাষ্ট্রে

পানি সরবরাহ বন্ধ করলে সেটিকে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তান। তারা বলেছে, যদি ভারত পানিচুক্তি স্থগিত করে, তাহলে তারা নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) সংক্রান্ত ১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তি বাতিল করতে পারে। সিমলা চুক্তি বাতিল হলে, নিয়ন্ত্রণ রেখার বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠে যাবে। ইতিমধ্যে ১১ দিন ধরে ২০০৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন হচ্ছে, যে চুক্তির লক্ষ্য ছিল সীমান্তে সংঘর্ষ থামিয়ে উত্তেজনা হ্রাস করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *