সংখ্যালঘুদের অনেকে রাজনৈতিক কারণে ব্যবহার করছে: ড. ইউনূস

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সংখ্যালঘু বিষয়ক সমস্যাকে একটি বৈশ্বিক ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছেন। জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সংখ্যালঘু নিয়ে সমস্যা শুধুমাত্র বাংলাদেশের নয়, এটি সব দেশেই বিদ্যমান।”

তিনি উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন দেশে সংখ্যালঘু সমস্যাগুলো রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়, এবং বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এটি ঘটে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকারের মূল দায়িত্ব হলো সংবিধানের অধিকারগুলো সবার জন্য সমানভাবে প্রতিষ্ঠা করা, যাতে ধর্মীয় বা জাতিগত বিভাজনের কোনো প্রশ্ন না থাকে। ড. ইউনূস বলেন, “আমরা সংবিধানে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ বা অন্য কোনো ধর্মের ভিত্তিতে অধিকার ভাগ করে দেইনি, বরং সবার অধিকার সুরক্ষিত করার ওপরই গুরুত্ব দিয়েছি। যতদিন এই অধিকারগুলো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত না হয়, ততদিন সরকারের দায়িত্ব তা নিশ্চিত করা।”

আরও পড়ুন:  কাজের ভিসা সহজে পাওয়ার সেরা ১০টি দেশ

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আমি বলব যে, যেই পরিমাণ (সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা) প্রচার হচ্ছে, সেই পরিমাণ আমাদের দৃষ্টিতে আসছে না। আমরা বারে বারে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। কিন্তু মনে হচ্ছে না যে, অত বড় কিছু আসলে হচ্ছে। অনেকে এটা রাজনৈতিক কারণে ব্যবহার করছে। যেটুকু হচ্ছে সেটা যেন না হয়, শূন্যের কোঠায় পৌছায় সেদিকে আমরা যাব।’

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে ড. ইউনূস বলেন, ‘ভারত আমাদের প্রতিবেশী এবং আমাদের একমাত্র প্রতিবেশী বলা যায়। কারণ চারদিক থেকেই ভারত আমাদের আছে। কাজেই তার সাথে আমাদের সবচেয়ে ভালো সম্পর্ক হওয়া উচিত এবং হবে। এ ছাড়া আমদের গত্যন্তর নাই, তাদেরও গত্যন্তর নাই। দুই দেশের মধ্যে বৈরি সম্পর্ক রেখে কেউ লাভবান হবে না। আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা হবে সবচেয়ে সুসম্পর্ক বজায় রাখা। বন্ধুত্বের শীর্ষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া—এটাই আমাদের উদ্যোগ।’

আরও পড়ুন:  প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নিউইয়র্ক যাচ্ছেন আজ

দুই দেশের পানিবণ্টন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন আছে। দুই দেশের মধ্যকার চলমান বিরোধ নিরসনে দুই দেশ আন্তর্জাতিক আইন মেনে নিলেই সেটার সমাধান হবে। সার্ক একটা পরিবারের মতো ছিল। আমরা সেই কাঠামোতে ফিরে যেতে পারি কি না দেখব। শুধু ভারতের সাথে না, দক্ষিণ এশিয়ায় যত দেশ আছে, সবাই যেন পরস্পরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজার রাখে। শান্তিপূর্ণ জোন হিসেবে আমরা একে গড়তে চাই। বাধা-বিপত্তি এড়িয়ে সার্ক ও বিমসটেক-কে সক্রিয় করার চেষ্টা করব।’

 

…….ডিডিজে নিউজ/এম এফ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *