মোহাম্মদপুরে গ্যাংপ্রধান ‘অ্যালেক্স ইমনকে’ কুপিয়ে হত্যা করল অপর গ্রুপ

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী এলাকায় ইমন নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ইমনের পা ও হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ইমন অ্যালেক্স গ্রুপ নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের প্রধান। অপর একটি কিশোর গ্যাংয়ের গ্রুপ তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। ইমন ওরফে অ্যালেক্স ইমনের বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, ছিনতাইসহ ১৮টি মামলা রয়েছে।

আজ রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোহাম্মদপুর থানাধীন রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী বেড়িবাঁধ সড়কের ঢালে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. সাইফ (২৩), তুহিন (২০) ও মো. রাব্বি কাজী (২৫)। তাঁরা সবাই ইমনের প্রতিপক্ষের সদস্য। তাঁদের কাছ থেকে তিনটি চাপাতি, একটি কাটার ও একটি স্টিলের পাত উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন:  গাজীপুরে সাংবাদিক তুহিন হত্যায় মামলা, আটক ৫

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডে শাহরুখ, আরমান, কাইল্লা বাদল, কাল্লু, ইয়াসিন, চিকু শাকিল, ভান্ডারি ইমন, ন্যাকেট শাকিলসহ আরও অনেকে জড়িত।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রায়েরবাজার এলাকায় অ্যালেক্স ইমন গ্রুপ ও আরমান-শাহরুখ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে আজ বিকেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ইমন গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে ইমনের মরদেহ জরুরি বিভাগের মর্গে রয়েছে।

আরও পড়ুন:  নাবিকদের উদ্ধারের বিষয়ে যা বললেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইমনের বিষয়ে মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, অ্যালেক্স ইমন রায়েরবাজার এলাকার চিহ্নিত কিশোর গ্যাং চক্রের মূল হোতা। তিনি অ্যালেক্স গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন। তাঁর বিরুদ্ধে ছিনতাই, হত্যাসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে।

এদিকে এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অস্ত্র হাতে একটি দল আরেকটি দলকে ধাওয়া করে। এ সময় ইমন পড়ে যান। তাঁর হাতেও ধারালো অস্ত্র ছিল। তবে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালালে তখন অস্ত্র ফেলে বাঁচার চেষ্টা করেন। কিন্তু ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর দুই পা, হাঁটু, হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বলেন, রায়েরবাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অ্যালেক্স ইমনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছেন রায়েরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা।

আরও পড়ুন:  মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার শেষে আইসিইউতে মির্জা আব্বাস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *