১৯৬০ বছর আগের কথা, ‘রোম পুড়ছিল আর নিরো বাঁশি বাজাচ্ছিলেন’। ঘটনাটি সত্য নাকি রূপক, সেটি নিয়ে তর্ক হতে পারে।
দর্শকদের ভিড়ের মাঝেও তাকে অনেকটা আলাদা মনে হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। চারপাশের মানুষজন মাঝে মাঝে তার কাছে এসে সংক্ষিপ্ত আপডেট দিয়ে আবার সরে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ট্রাম্প নিজে বেশিরভাগ সময়ই নীরব ও স্থির ছিলেন, চোখ ছিল কেবল লড়াইয়ের দিকেই।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অ্যারেনায় প্রবেশের সময় ইরান ইস্যুতে চলমান আলোচনা ব্যর্থতার খবর তিনি পুরোপুরি জানতেন কি না, তা পরিষ্কার নয়। তিনি তখন ফোন ব্যবহার করেননি। এক পর্যায়ে মার্কো রুবিও তাকে নিজের ফোন দেখান বলে জানা গেছে। তবে পুরো সময়জুড়ে ট্রাম্পের আচরণে কোনো স্পষ্ট উদ্বেগ বা উত্তেজনার ছাপ দেখা যায়নি।
বরং এক পর্যায়ে ক্যামেরার দিকে হালকা হাসি এবং বিজয়ীদের উদ্দেশে থাম্বস আপ দিতে দেখা যায় তাকে। এর আগেই ফ্লোরিডার পথে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, চুক্তি হোক বা না হোক, তাতে তার খুব একটা কিছু আসে যায় না। তিনি দাবি করেন, আমরাই জিতেছি, যেভাবেই হোক।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনে তখন জমে উঠছিল ভিন্ন এক চাপের পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে প্রশাসনের ওপর সমালোচনা বাড়ছিল। ইরান নিয়ে কঠোর অবস্থান এবং সামরিক উত্তেজনা তৈরির দায়ও অনেকেই ট্রাম্পের ওপর চাপাচ্ছিলেন।
ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছু রিপাবলিকান সমর্থকের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দেয়। কংগ্রেসে তার বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের দাবি ওঠে এবং তার মানসিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন অনেকে।
তবে এসব রাজনৈতিক চাপ ও বিতর্ক থেকে অনেকটা দূরে, মায়ামির সেই অ্যারেনায় ট্রাম্পকে দেখা গেছে ভিন্ন এক আবহে। দর্শকদের উচ্ছ্বাস, আক্রমণাত্মক লড়াই আর আলোর ঝলকানির মধ্যে তিনি যেন কিছু সময়ের জন্য বাইরের বাস্তবতা থেকে আলাদা এক জগতে ছিলেন।
একটির পর একটি লড়াই চলছিল, খাঁচার ভেতরে তীব্র সংঘর্ষ, রক্ত আর উত্তেজনার মুহূর্তে ভরা পুরো আয়োজন। সবকিছুর মাঝেই ট্রাম্প ছিলেন মনোযোগী দর্শক।
সেই সময় তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। মেয়ে ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও টিফানি ট্রাম্প, ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এবং তার সঙ্গী বেটিনা অ্যান্ডারসন সেখানে ছিলেন। তবে পাকিস্তানে জেডি ভ্যান্সের সফরের কারণে ইভাঙ্কার স্বামী জ্যারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেন না।
রাজনৈতিক অস্থিরতা, কূটনৈতিক ব্যর্থতা আর অভ্যন্তরীণ চাপের খবর যখন একের পর এক সামনে আসছিল, তখন মায়ামির সেই আলো ঝলমলে অ্যারেনায় ট্রাম্পের উপস্থিতি তৈরি করেছিল এক ভিন্ন চিত্র, যেখানে বাস্তবতার ভার যেন কিছুক্ষণের জন্য দূরে সরে গিয়েছিল।







