ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণের পর গণনা শেষে বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করে জেলা নির্বাচন কমিশন।
জেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পোস্টাল ব্যালটসহ মোট ১৫১টি কেন্দ্রের চূড়ান্ত ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে রেজাউল করিম বাদশা পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৯৩১ ভোট।
উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা, জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির প্রার্থী আল আমিন তালুকদার।
ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রগুলো থেকে ব্যালট বাক্স সংগ্রহ করে গণনা শুরু করা হয়েছে।
এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ জন, নারী ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৭৪ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ১০ জন।
২১টি পৌর ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৫০টি। বুথের সংখ্যা ৮৩৫টি, যার মধ্যে ৭৮৭টি স্থায়ী এবং ৪৮টি অস্থায়ী।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ এই দুই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উভয় আসনেই জয়লাভ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আইন অনুযায়ী, একাধিক আসনে নির্বাচিত হলেও একটি আসনই ধরে রাখতে পারবেন তিনি। সেক্ষেত্রে বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিয়ে ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন তিনি। বর্তমানে তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী।
তিনি ছেড়ে দেওয়ায় এ আসনটিতে আজ উপনির্বাচন হলো।
শেরপুর:
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মৃত্যুতে স্থগিত থাকা শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনেও এদিন সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয়েছে।
রাতে মোট ১২৮ কেন্দ্রের মধ্যে সব কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। ১০ এপ্রিল সকাল ১১টায় সরকারিভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে জানান জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী মাসুদুর রহমান পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১ ভোট। এর মধ্যে কাচি মার্কা মিজানুর রহমান ৪৮০ ভোট।
শেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও শেরপুর-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, পোস্টাল ব্যালট ছাড়া এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ৫২ শতাংশ। এ আসনে মোট ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৪ জন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে ধাপে ধাপে ফলাফল সংগ্রহের পর তা ঘোষণা করা হয়।
তিনি বলেন, কড়া নিরাপত্তায় উৎসবমুখর পরিবেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হয়েছে। দুই-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বড় কোনো ধরনের ঘটনা ঘটেনি। আর জামায়াতের প্রার্থীর ভোট বর্জনের কথা আমাকে লিখিতভাবে জানাননি। তারা মৌখিকভাবে যা অভিযোগ করেছে আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। সুষ্ঠু নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য জামায়াত ভোট বর্জনের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ নির্বাচন অবাধ এবং সুষ্ঠু হয়েছে। জনগণ এ নির্বাচন নিয়ে আনন্দিত।







