সিঁড়িতে পড়ে গেলেন শিরীন শারমিন

জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে নিরুদ্দেশ থাকা শিরীন শারমিন চৌধুরী দেড় বছরের বেশি সময় পর গ্রেফতার হয়ে গেলেন কারাগারে।

সাবেক এই স্পিকারকে অভ্যুত্থানের সময়কার একটি হত্যাচেষ্টার মামলায় হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন ছিল পুলিশের। তবে তাতে সায় দেননি আদালত। আবার জামিনের আবেদনও নাকচ করে দেন বিচারক। 

ঢাকার মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ২০ মিনিটের শুনানি শেষে শিরীন শারমিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। এ আদেশের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা আদালত প্রাঙ্গণে স্লোগান তুললে তাদের সঙ্গে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের ধাক্কাধাক্কি হয়।

শিরীন শারমিনকে হাজতখানায় যখন নেওয়া হচ্ছিল, তখন আওয়ামী লীগ সমর্থক একদল আইনজীবী স্লোগান তুললে উত্তেজনা দেখা দেয়। তাদের সঙ্গে বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের ধাক্কাধাক্কি হয়।

আরও পড়ুন:  বস্তুত, মেধাবীদের কোটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই

এ সময় আদালত থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামানোর সময় ভিড়ের মধ্যে নিচতলার সিঁড়িতে ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যান শিরীন শারমিন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে টেনে তোলেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।

তবে ঢাকা সিএমএম আদালতের হাজতখানায় দায়িত্বরত উপপরিদর্শক মো. মোরশেদ আলম সাংবাদিকদের বলেন, উনি পড়েননি। শেষ সিঁড়িতে এসে তার পা একটু বেঁকে যায়। আমাদের নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে চারদিক থেকে ধরে রাখেন। তিনি পড়েননি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের করা দুই দিন রিমান্ডের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী, মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী।

ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এই আসামি ‘ফ্যাসিস্টের সহযোগী’ ছিলেন। তিনি বিনা ভোটে নির্বাচিত একজন সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি ‘ফ্যাসিস্ট সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে আন্দোলনে গুলি চালানোরও নির্দেশ’ দেন। এ মামলার ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাঁকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন:  প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা শুরু ২৮ জানুয়ারি

অন্যদিকে রিমান্ড আবেদন বাতিল করে শিরীন শারমিনকে জামিন দিতে আবেদন করেন ব্যারিস্টার মামুন, শামীম আল সাইফুল সোহাগসহ কয়েকজন আইনজীবী।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, এ মামলায় ১৩০ জনের নামসহ অজ্ঞানতানামা অনেকে আসামি আছেন। এজাহারে শিরীন শারমিনের নাম ছাড়া আর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এজাহারে ৩ নম্বরে তাঁর নাম থাকা ছাড়া আর একটা শব্দও যদি কিছু থাকে, তবে জামিন চাইব না।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে আজিমপুর সরকারি কলোনির ভেতরে গুলিবর্ষণে মো. আশরাফুল (ফাহিম) স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এবং শিরীন শারমিনসহ অন্যান্য আসামিদের প্রত্যক্ষ মদতে এই হামলা চালানো হয়। মামলার ৩ নম্বর আসামি হিসেবে গত রাতে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *