যুদ্ধ ৪০ দিন ছাড়ালে খাদ্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতির সতর্কতা এফএওর

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয়ক সংস্থা (এফএও) শুক্রবার জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটির ফুড প্রাইস ইনডেক্স বা খাদ্যমূল্য সূচকে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে গড়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মূল কারণ জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য।

এক বিবৃতিতে এফএও-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দামের বৃদ্ধি এখন পর্যন্ত পরিমিত পর্যায়ে আছে। কিন্তু এই সংঘাত ৪০ দিনের বেশি স্থায়ী হলে এবং সারের চড়া দাম অব্যাহত থাকলে কৃষকদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধ শুক্রবার ৩৫তম দিনে গড়িয়েছে। ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেছেন, কম সার ব্যবহার করে একই জমিতে চাষ করা, চাষের পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া কিংবা সার কম লাগে এমন ফসল চাষ-এগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি সিদ্ধান্ত নিতে চাষিরা বাধ্য হবেন। এতে করে ভবিষ্যতে ফলন কমে যাবে। বড় প্রভাব পড়বে চলতি বছরের বাকি সময় এবং আগামী বছরের খাদ্য সরবরাহ ও পণ্যের দাম নির্ধারণে।

আরও পড়ুন:  ইরানে পারমাণবিক হামলা করবে যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ কূটনীতিকের পদত্যাগ

জাতিসংঘের সংস্থাটির সূচক অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে ভেজিটেবল অয়েল বা উদ্ভিজ্জ তেলের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে- ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৫ দশমিক ১ শতাংশ। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে পাম অয়েলের দাম ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করেছে। প্রভাব পড়েছে কয়েক লাখ মানুষের ওপর। যুদ্ধের এ পর্যায়ে এসে উভয়পক্ষ অর্থনৈতিক ও শিল্প এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাব রণক্ষেত্রের বাইরেও গভীর হচ্ছে।

তবে এখনও যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল কিংবা ইরানের পক্ষ থেকে উত্তেজনা প্রশমনের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। বরং ইরানে হামলা আরও জোরদারের হুমকি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন এখনও ইরানের অবশিষ্ট অবকাঠামো ধ্বংস করা শুরুই করেনি। সেতুর পর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু বানানো হবে।

আরও পড়ুন:  টর্নেডোর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্র, প্রাণহানি বেড়ে ২১

পাল্টা জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক মাধ্যমের এক পোস্টে বলেছেন, সেতুসহ বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনে ইরানিদের আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করা যাবে না।

অপরদিকে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে শুক্রবার জানানো হয়েছে, দেশটির কয়েকটি স্থান লক্ষ্য করে ইরান একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে একটি ক্লাস্টার ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় কিছু ঘরবাড়ি ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নতুন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ভূপাতিত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। জরুরি পরিষেবা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, একটি ক্ষেপণাস্ত্রের স্প্লিন্টারের আঘাতে তেল আবিবের রেলস্টেশনে কিছু ক্ষতি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *