রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ইতিহাসও গড়েছে টাইগাররা। ২০১৫ সালে মাশরাফি বিন মর্তুজার পর নিজেদের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। এই সিরিজ জয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরেও উঠে এসেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
রোববার মিরপুরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৯০ রানের লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। দলের এই বড় সংগ্রহে মূল কারিগর ছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। আগের ম্যাচের হতাশা ভুলে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তিনি তুলে নেন নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি।
২৯১ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই তাসকিন আহমেদ এবং নাহিদ রানার গতির আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় পাকিস্তানের টপ অর্ডার। স্কোরবোর্ডে মাত্র ১৭ রান জমা করতেই ৩ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো ধুঁকতে থাকে সফরকারীরা। একশোর আগে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকেই গিয়েছিল তারা।
তবে খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন আব্দুল সামাদ ও সাদ মাসুদরা। এরপর খাদের কিনারা থেকে একাই লড়াই চালিয়ে যান আগের ম্যাচের খলনায়ক সালমান আগা। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন তিনি।
সালমানের ব্যাটে যখন পাকিস্তানের জয়ের স্বপ্ন বড় হচ্ছিল, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে আসেন তাসকিন আহমেদ। তার দুর্দান্ত এক স্লোয়ার ডেলিভারিতে পরাস্ত হয়ে সালমান সাজঘরে ফিরলে পাকিস্তানের শেষ আশাটুকুও ধূলিসাৎ হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ২৭৯ রানে অলআউট হয় সফরকারীরা।
বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার তাসকিন আহমেদ। একাই চারটি উইকেট নেন তিনি। মুস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন তিনটি উইকেট। এছাড়া নাহিদ রানা দুটি ও রিশাদ একটি উইকেট নেন।
মুস্তাফিজে ফিরলেন রউফ, ৬ বলে ১৪ রান দরকার পাকিস্তানের
৪৯তম ওভারের পঞ্চম বলে পায়ে আঘাত পান মুস্তাফিজ। শাহিন আফ্রিদির সোজাসুজি খেলা শট মুস্তাফিজের হাঁটুর ঠিক ওপরের অংশে সরাসরি লাগে। চিকিৎসকেরা মাঠে এসে কয়েক মিনিট সময় নিয়ে তাকে বোলিংয়ের জন্য প্রস্তুত করেন। নিজের শেষ বলে হ্যারিস রউফকে ফেরান মুস্তাফিজ।
সালমানকে ফিরিয়ে স্বস্তি ফেরাল তাসকিন
এক প্রান্তে আগলে দলকে টেনে নিচ্ছিলেন সেঞ্চুরিয়ান সালমান আলী আগা। অবশেষে তাকে ফেরালেন তাসকিন। ৯৮ বল খেলে ১০৬ রানে থামলেন সালমান। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৯টি বাউন্ডারি ও ছয়টি ছক্কায়। পাকিস্তানের দরকার ১৪ বলে ৩০ রান
ছক্কা মেরে সালমানের সেঞ্চুরি
ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি স্পর্শ করলেন সালমান আলি আগা। ৮৯ বলে এলো তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। ৪৫ ওভারে পাকিস্তানের রান ৭ উইকেটে ২৪৬। জয়ের জন্য শেষ ৫ ওভারে ৪৫ রান চাই সফরকারীদের।
ফাহিমকে ফেরালেন তাসকিন, ৭ উইকেট নেই পাকিস্তানের
সালমান আগা একপ্রান্ত আগলে রাখার পাশাপাশি দ্রুত রানও তুলছেন। তবে তাকে সঙ্গ দিতে পারলেন না ফাহিম আশরাফ। তাসকিনের বলে বোল্ড হয়ে ফিরলেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। নতুন ব্যাটার শাহীন আফ্রিদি। শেষ ১০ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ৮০ রান। উইকেটে একমাত্র বিশেষজ্ঞ ব্যাটার হিসেবে আছেন ৭৭ রানে অপরাজিত থাকা সালমান।
সালমানের পঞ্চাশ
রিশাদ হোসেনকে ছক্কা মেরে ৬০ বলে পঞ্চাশ স্পর্শ করেছেন সালমান আলি আগা। ৩৬ ওভারে পাকিস্তানের রান ৬ উইকেটে ১৮৪। ৬২ বলে ৫৬ রানে খেলছেন সালমান। ১২ বলে ৬ রানে ব্যাট করছেন ফাহিম আশরাফ।
সাদকে বোল্ড করে জুটি ভাঙলেন মুস্তাফিজ
অবশেষে সাদকে বোল্ড করে জুটি ভেঙেছেন মুস্তাফিজ। ৪৪ বলে ৩৮ রান করে ফেরেন তিনি। মাসুদের বিদায়ে ভাঙে সালমানের সঙ্গে ৭৯ রানের জুটি। ৩২ ওভারে পাকিস্তানের রান ৬ উইকেটে ১৬৩। ক্রিজে সালমান আলি আগার সঙ্গী ফাহিম আশরাফ।
একশর আগেই ৫ উইকেট নেই পাকিস্তানের
দলীয় ৮২ রানে পঞ্চম উইকেট হারিয়েছে পাকিস্তান। জয়ের জন্য শেষ ২৫ ওভারে আরও ১৬৮ রান চাই তাদের। ২৮ বলে ১৯ রানে খেলছেন সালমান আলি আগা। সাদ মাসুদ ২৪ বলে ব্যাট করছেন ২৩ রানে।
ঘোরিকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙলেন নাহিদ
বাংলাদেশকে স্বস্তি দিয়েছেন নাহিদ রানা। মোহাম্মদ গাজী ঘোরিকে বোল্ড করে জুটি ভাঙলেন টাইগার এই পেসার। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমে ৩৯ বলে ২৯ রান করেন ঘোরি। পাকিস্তানের নতুন ব্যাটসম্যান আগা সালমান। ১৫ ওভার শেষে পাকিস্তানের রান ৪ উইকেটে ৬৮। ২৩ রানে আছেন আব্দুল সামাদ। ক্রিজে নতুন ব্যাটার সালমান আলী আগা।
তিন ওভারে ৩ উইকেট নেই পাকিস্তানের
তাসকিন-নাহিদে দিশেহারা পাকিস্তানের টপ অর্ডারে। তিন ওভারে ৩ উইকেট হারিয়েছে সফরকারীরা। ইনিংসের প্রথম ওভারে শাহিবজাদা ফারহানকে ফেরান তাসকিন। ৫ বলে ৬ রান করেন তিনি। পরের ওভারে নাহিদের বলে লিটনকে ক্যাচ দিয়েছেন সাদাকাত। ৬ রান করেছেন পাকিস্তান ওপেনার। তৃতীয় ওভারে তাসকিনের দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফিরলেন রিজওয়ান। এতে ইনিংসের প্রথম ১৭ বলে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পাকিস্তান। ৪ ওভারে পাকিস্তানের রান ৩ উইকেটে ২৭। ক্রিজে গাজি ঘোরির সঙ্গী আব্দুল সামাদ।
এর আগে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বড় পুঁজি পায় বাংলাদেশ। আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৯০ রানে থেমেছে বাংলাদেশ। হৃদয় ৪৪ বলে ৪৮ আর আফিফ ৮ বলে ৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। সিরিজ জিততে হলে পাকিস্তানকে এই রানের মধ্যেই আটকাতে হবে।







