বইমেলা ১৭ দিনে বিক্রি প্রায় ১৭ কোটি টাকা

অমর একুশে বইমেলা শেষের প্রহরে এসে খুলেছে বিক্রির হিসাবের খাতা। বইপ্রেমীদের মিলনমেলা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামনে এসেছে এবারের বই বিক্রির চিত্র। আয়োজকদের হিসাব বলছে, এবারের মেলায় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত বিক্রি প্রায় ১৭ কোটি টাকা। রোববার বইমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মো. সেলিম রেজা প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের মেলায় অংশগ্রহণকারী ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৭০টি ছিল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ২৬৯টি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী মেলার ১৭ দিনে তাদের মোট বই বিক্রি হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা। এই হিসাবের গড় ধরে ধারণা করা হয়েছে, সব মিলিয়ে ৫৭০টি প্রতিষ্ঠানের বিক্রির পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৭ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন:  পদ্মাসেতু ঋণের দুই কিস্তির টাকা গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী

তথ্য বিশ্লেষণে একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়ও সামনে এসেছে। দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে বেশি ইউনিটের স্টল পাওয়া বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম ইউনিটের স্টল পাওয়া ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি বেশি হয়েছে। অর্থাৎ স্টলের আকার নয়, পাঠকের আগ্রহই নির্ধারণ করেছে বিক্রির পরিমাণ।

এদিকে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমিও নিজস্ব স্টল থেকে বই বিক্রির হিসাব প্রকাশ করেছে। ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১৭ দিনে বাংলা একাডেমি বিক্রি করেছে ১৭ লাখ ৪ হাজার ৬২৯ টাকার বই। মেলায় বাংলা একাডেমিসহ সব প্রতিষ্ঠানের বই ২৫ শতাংশ কমিশনে বিক্রি হয়েছে।

এবারের মেলায় নতুন বইয়ের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। তথ্যকেন্দ্রের হিসাবে ১৪ মার্চ পর্যন্ত জমা পড়েছে ১ হাজার ৭৭১টি নতুন বই। তবে সব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান তথ্যকেন্দ্রে বই জমা না দেওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিবন্ধন অনুযায়ী ২৫২টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:  কাল শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে এবারের মেলায় ৫৮৪টি প্রতিষ্ঠানকে ১০৬৮ ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়। শিশুদের জন্য ৬৩টি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয় ১১১ ইউনিটের স্টল, আর লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ছিল ৯০টি লিটল ম্যাগ স্টল।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারের মেলায় স্টল ভাড়া মওকুফ করা হয়। যারা আগে স্টল ভাড়ার টাকা জমা দিয়েছিলেন, তাদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানানো হয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’। বিভিন্ন আয়োজন ও আলোচনাকে এই প্রতিপাদ্যের আলোকে সাজানো হয়েছিল। শিশুদের জন্য পৃথক চত্বর, শিশুপ্রহর, পাপেট শো ও বায়োস্কোপের আয়োজন ছিল বিশেষ আকর্ষণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *