অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান
আমাদের চারপাশে দুই চোখে যত দূর দেখা যায়, ধ্যানে জ্ঞানে যতটুকু জানা যায় একেক জন মানুষ এক বা একাধিক গুণ বা বৈশিষ্ট্য নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। কেউ বা দক্ষ প্রশাসক, কেউ বা উদারমনা সমাজসেবক, কেউ বা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, কেউ বা শিক্ষা বিস্তারে অগ্রণী সৈনিক, কেউ বা অসাম্প্রদায়িক হৃদ্যজন, কেউ বা শিল্প সংস্কৃতি অনুরাগী, কেউ বা আদর্শবান দূরদর্শী শিক্ষক।
মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকরা স্বমহিমায় বিশুদ্ধ জ্ঞান, মানবিক আর নৈতিক শিক্ষায় দীক্ষিত করে গড়ে তোলেন যোগ্যতম নাগরিক। প্রতিটি শিক্ষিত মানুষের জীবনে শিক্ষকের আদর্শিক প্রভাব নানাভাবে প্রেরণার পথ দেখায়। কালের আয়নায় এখনো অবারিত মানবতাবোধের পথ দেখায় অনেক মহত্তম শিক্ষকের রেখে যাওয়া আদর্শ আর দেখিয়ে দেয়া পথ। তেমনি একজন শিক্ষক আবু স্যার। যিনি তাঁর এক জীবনের শিক্ষকতা পেশায় রেখে গেছেন অজস্র মানবীয় দীক্ষার নজির।
তিনি গ্রামের নামানুসারে আবু মিয়া, প্রিয় ছাত্রদের কাছে আবু স্যার নামে সমধিক পরিচিত ছিলেন। হাস্যোজ্জ্বল, সদালাপী, রঙ্গরসময় এবং সরল-কোমল মনের অধিকারী ছিলেন। ছাত্র-ছাত্রীরা ছিলো তাঁর প্রিয় সন্তানের মতো। বন্ধুর মতো প্রাণখোলা সরলতায় মিশতেন শিক্ষার্থীদের সাথে। আবু স্যার শুধু ছাত্রদের কাছে নয়, অভিভাবকদের কাছে ছিলেন একজন প্রিয় শিক্ষক। ছাত্র-ছাত্রীদের যে কোনো সমস্যা আর বিপদে তিনি ছিলেন পরম আশ্রয়দাতা। কোনো বিষয়কেই জটিলভাবে দেখতেন না। সমাধান খুঁজতেন সহজ পথে। দ্বিধা, অহমিকা, দম্ভ ছিলো না তাঁর মাঝে। ছাত্র-শিক্ষকের সম্পর্ক কতটা গভীর ও আন্তরিক আস্থাশীল হতে পারে তা কেবল তাঁর ছাত্র-ছাত্রীরা অনুভব করতে পারবেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ানুরাগী এই মহান শিক্ষকের প্রিয় স্থান ছিল স্কুল প্রাঙ্গণ।
১৯৪৩ সালের ২ জুলাই সন্দ্বীপের উত্তর মগধরা গ্রামের মহব্বত আলী হাজীর বাড়িতে তাঁর জন্ম। পূর্ণ নাম আবু ইউসুফ মোহাম্মদ ছায়েদুল হক। ডাক নাম আবু। তাঁর পিতার নাম তফজল বারী। গ্রামের প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ১৯৫৪ সালে তিনি চট্টগ্রাম শহরের ঐতিহ্যবাহী মুসলিম হাই স্কুলে ভর্তি হন। তখনকার দিনে জেলা শহরে এসে পড়াশোনার ভাগ্য বা সুযোগ অনেকের ছিল না। ১৯৬০ সালে মাধ্যমিক পাস শেষে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার স্যার আশুতোষ কলেজ থেকে ১৯৬৪ সালে এইচএসসি এবং ১৯৬৬ সালে বাণিজ্যে স্নাতক পাস করেন।
১৯৬৬ সালে স্নাতক পাসের পর পূর্ব সন্দ্বীপ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে অবৈতনিক শিক্ষক হিসাবে যোগ দেন এবং জরাজীর্ন জুনিয়র হাই স্কুলকে হাই স্কুলে রূপান্তরে বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক কাজী মোঃ শহীদুল্লাহ’র সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করেন। স্কুল পাঠাগারের জন্যে বই সংগ্রহ করা ও সহকর্মীদের মাঝে অনুপ্রেরণা সৃষ্টিতে তিনি অদ্বিতীয় ছিলেন।
তিনি শিক্ষকতাকে চাকুরী হিসেবে নয় ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন। ১৯৭৪ সালে বিএড পাস করেন। বিএড প্রশিক্ষণকালীন সময়ে তিনি প্রতিভা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখেন এবং অনেক প্রশাংসাপত্র প্রাপ্ত হন।
১৯৭৫ সালে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন। ১৯৮৮ সালে একই প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন।
তাঁর সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি মৎস্য, সমবায়, স্বাস্থ্য, সমাজসেবা বিষয়ে অনেক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং অর্জিত অভিজ্ঞতা বাস্তবায়নে নিরলস পরিশ্রম করেন। অনেকই তাঁকে শিক্ষকতা ছেড়ে স্বাধীন ব্যবসায়ে আত্মনিয়োগের পরামর্শ দেন। কিন্তু তিনি আর্থিক চিন্তার চেয়ে সমাজ সংস্কারমূলক চিন্তাকে প্রাধান্য দেন। সার্বিক বিবেচনায় দেশের মূল ভূখন্ড থেকে সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছন্ন সন্দ্বীপে তাঁর মতো কিংবদন্তীতুল্য একজন শিক্ষকের জন্মগ্রহণ সত্যিই বিস্ময়কর। তিনি এত সুপরিচিতি, এত বেশি সুনাম ও সাফল্য অর্জন করেছিলেন যে, বহু মানুষের কাছে তিনি ছিলেন অনুকরণীয়। তৎকালীন সময়ে তিনি ক্লাসের পড়া ক্লাসে আদায় করতেন, টাকার বিনিময়ে জীবনে কখনো কোন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াননি।
সন্দ্বীপের প্রথম রেজিস্ট্রার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় ‘দারুস সালাম’ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি। গুপ্তচরা বেড়িবাঁধে বসবাসরত অবহেলিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো জ্বালাতে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন আবু স্যার। তিনি ১৯৭৪ সালে একই স্থানে জামে মসজিদ, মোক্তব ও ইসলামী পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেন।
সন্দ্বীপে নারী শিক্ষার শীর্ষ বিদ্যাপীঠ আবুল কাসেম হায়দার মহিলা কলেজ। ২০০৩ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটির উদ্যোক্তা আবু স্যার। তিনি অন্যান্য যেসব প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা বা সংগঠক বা প্রতিষ্ঠাতা সেগুলো হলো-গোলাম মোস্তফা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব সন্দ্বীপ এনাম নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পূর্ব সন্দ্বীপ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা, পূর্ব সন্দ্বীপ হাই স্কুল কারিগরি বিভাগ, সন্দ্বীপ পাবলিক হাই স্কুল ও বায়তুল আমান জামে মসজিদ। তিনি স্যার আশুতোষ কলেজে পড়াকালীন কানুনগোপাড়ায় একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
সন্দ্বীপের বেসরকারি শিক্ষকদের বেতন তুলতে হতো জনতা ব্যাংক কুমিরা শাখা থেকে। ১৯৮৮ সালের ২০ জুলাই শিক্ষক প্রতিনিধি দল বেতনের টাকা নিয়ে কুমিরা ঘাট হয়ে গুপ্তচরা ঘাটে যাওয়াকালে মাঝ নদীতে একদল ডাকাত টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এরপর আবু স্যারে দীর্ঘ মেয়াদী প্রচেষ্টা, ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে শিক্ষক সমাজ আজ তাদের বেতন সোনালী ব্যাংক সন্দ্বীপ শাখা থেকে উত্তোলন করতে করছেন।
তিনি ১৯৭৮ থেকে ৮২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি সন্দ্বীপ শাখার সাধারণ সম্পাদক, পরে সভাপতি, এরপর চট্টগ্রাম জেলা কমিটির নির্বাহী সদস্য ও কেন্দ্রীয় কমিটির প্রতিনিধি ছিলেন। তিনি ১৯৯৮ সালে সন্দ্বীপ উপজেলার শ্রেষ্ঠ মাধ্যমিক প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন।
জাতীয় স্কুল-মাদরাসা’র সমন্বয়ে গঠিত ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, Work comp Association এর সাধারণ সম্পাদক, মুনস নামক জাতীয় সংগঠনের সন্দ্বীপ শাখার সভাপতি, উত্তর মগধরা মৎস্য চাষ প্রকল্প সমবায় সমিতির সভাপতি, উত্তর মগধরা কৃষি সমবায় সমিতির সভাপতি, উত্তর মগধরা সন্ত্রাস নির্মূল কমিটির সভাপতি (১৯৯১), সেকান্দর সাফিয়া ট্রাস্ট ও আমানটোলা বিশ্বদরবার তানজিমুল আশেকিনের সহ-সভাপতি, দারুস সালাম কমপ্লেক্সের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক, মুছাপুর জুনিয়র অসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ১৯৮৬ সালে তিনি শ্রেষ্ঠ থানা সংগঠক নির্বাচিত হয়েছিলে।
১৯৮০ সালে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন কমিটি-সন্দ্বীপ মানবতা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়ায় এ ওয়াই এম ছায়েদুল হককে পুরস্কার প্রদান করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শোয়াইবুর রহমানের সময়ে তিনি শ্রেষ্ঠ সংগঠক হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। তিনি সিরাজউদদৌলা নাটকে দক্ষতার সাথে অভিনয় করে নবাব উপাধি পেয়েছিলেন।
একদিকে আবু স্যার আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত একজন যুগোপযোগী মানুষ, অন্যদিকে খোদাভীরু ধার্মিক ব্যক্তি। ২০০২ সালে তিনি পবিত্র হজ্বব্রত পালন করেন। নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক আয়োজনে মিলাদুন্নবী (স:) উদযাপন করতেন। তিনি স্বরস্বতী পূজা উদযাপন করতেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও খেলাধুলায় যথেষ্ঠ অনুরাগী ছিলেন। খেলার মাঠে তিনি বহুদিন রেফারীর দায়িত্ব পালন করেন। সন্দ্বীপের শিক্ষা ও সংস্কৃতির আকাশে তিনি ছিলেন অদ্বিতীয় এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
২০০৪ সালের ১২ মার্চ শুক্রবার দিবাগত রাত বারোটা পনের মিনিটে আবু স্যার চট্টগ্রামে তাঁর নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ দেশে এবং বিদেশে হাজার হাজার মানুষকে করেছে মর্মাহত ও শোকাহত। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। কিন্তু তাঁর কর্মস্পৃহা, সৃজনশীলতা এবং তারুণ্য দেখলে মনে হতো না তাঁর এতো বয়স হয়েছিল।
তাঁর মৃত্যুতে এবং প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্থানীয় হাট বাজার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কালো পতাকা উত্তোলিত হয়েছিল। অনেক শিক্ষা ও সামাজিক সংগঠন শোকসভার আয়োজন করেছিল।
মৃত্যুর পর তাঁর কর্মস্থল পূর্ব সন্দ্বীপ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত শোক সভায় তৎকালীন সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এনামুল হক এনা দেয়া ঘোষণা অনুযায়ী ২০০৪ সালের ৪ এপ্রিল সন্দ্বীপ পাবলিক হাই স্কুলের নুরুল মোস্তফা খোকন অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ ঘটে আলহাজ্ব মাস্টার এ ওয়াই এম ছায়েদুল হক স্মৃতি সংসদ নামে সামাজিক সংগঠনের। সময়ের পরিক্রমায় সংগঠনের বর্তমান নাম মাস্টার ছায়েদুল হক ফাউন্ডেশন।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে তাঁর স্মরণে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল এবং ২০১১ সাল থেকে তাঁর নামে মেধাবৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রসঙ্গেক্রমে, মেধাবৃত্তির উদ্যোক্তা শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে অঙ্গীকারাবদ্ধ ২০১৩ সাল থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক আলোকিত সন্দ্বীপ পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান। চালু রয়েছে দাতব্য চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র, রমজান মাসে সহ্হি সুরা ক্বেরাত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, আর্থিক অনুদান কেন্দ্র, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মৃত্যুতে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল, রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল, অসহায় গরীবদের মধ্যে ইফতার সামগ্রী বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ ইত্যাদি।
ইতোমধ্যে মাস্টার ছায়েদুল হক ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় ৪টি প্রকাশনা প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশনা সমূহ হচ্ছে-চল্লিশ জন লেখকের লেখা নিয়ে অবিসংবাদিত (প্রকাশকাল-২৫ মার্চ ২০০৫, সম্পাদক কবি কাজী শামসুল আহসান খোকন, সহ-সম্পাদক অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান), উদ্দীপন-১ (প্রকাশকাল-২০১২, সম্পাদক অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান), উদ্দীপন-২ (প্রকাশকাল ১৫ মার্চ ২০১৪, সম্পাদক অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান), উদ্দীপন-৩ (প্রকাশকাল ১৭ ডিসেম্বর ২০২২, সম্পাদক অধ্যক্ষ মুকতাদের আজাদ খান)।
এ ওয়াই এম ছায়েদুল হকের প্রধান পরিচয় তিনি একজন শিক্ষক। একজন শিক্ষক মানুষের দ্বিতীয় জন্মদাতা। একজন শিক্ষক তাঁর সার্বিক চেতনা থেকে মানুষকে প্রাণির স্তর থেকে মনুষ্য স্তরে উন্নীত করার অনন্য এবং মহান স্থপতি। আজ সমাজে বিত্তবানের সংখ্যা, পদের অধিকারী ব্যক্তির সংখ্যা, পেশী শক্তি বলীয়ানের সংখ্যা আশ্চর্যজনকভাবে বেড়েছে। কিন্তু বড় মনের অধিকারী ব্যক্তির সংখ্যা, সৎ সাহসের সঙ্গে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার মানুষের সংখ্যা, অন্যকে সম্মান দিতে পারা মানুষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তাই আবু স্যারের মত একজন মানুষের জীবন ও কর্ম বেশি বেশি করে চর্চা করা উচিত। তাতে সমাজ ও দেশ উপকৃত হবে।
লেখক-অধ্যক্ষ, তাহের-মনজুর কলেজ, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম।
তারিখ, ১২ মার্চ ২০২১, শুক্রবার।







