হানিফ সংকেত পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার

‘এই মিলনায়তনে এবং মিলনায়তনের বাইরে যে-যেখানে বসে আমাদের এই অনুষ্ঠান দেখছেন, সবাইকে সাদর সম্ভাষণ।’ এরপর মিলনায়তনের দর্শকের করতালি। করতালি শেষে আবারও উপস্থাপকের বক্তব্য, ‘প্রীতি নিন, শুভেচ্ছা নিন।’ বলা হচ্ছে দেশ সেরা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র জনপ্রিয় উপস্থাপক হানিফ সংকেতের কথা।

নব্বই দশক থেকে শুরু করে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে যিনি তার কথার জাদুতে মুগ্ধ করছেন দর্শকদের। উপস্থাপনাও একটি শিল্প হতে পারে তা তিনি দক্ষতার সঙ্গে প্রমাণ করেছেন। একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রাণোচ্ছল এ ব্যক্তিত্বের সাফল্যের মুকুটে এবার যুক্ত হচ্ছে আরও এক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা।

জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন দেশের বরেণ্য ব্যক্তিত্বরা। এ বছরের তালিকায় বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছেন জনপ্রিয় উপস্থাপক ও নির্মাতা হানিফ সংকেত।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

আরও পড়ুন:  মানুষের কল্যাণে নীরবে যারা কাজ করছেন তাদের সম্মান দিন - প্রধানমন্ত্রী

এবার স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মোট ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছে। এর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও কণ্ঠশিল্পী বশির আহমেদ মরণোত্তরভাবে এ সম্মাননায় ভূষিত হচ্ছেন।

বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রদান করা হচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে প্রতি বছর ২৬ মার্চ এ পদক দেওয়া হয়।

জাতীয় জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে এই পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

১৯৫৮ সালের ২৩ অক্টোবর বরিশালে জন্ম গ্রহন করেছেন হানিফ সংকেত। তিনি একাধারে উপস্থাপক, পরিচালক, লেখক ও প্রযোজক। ১৯৮৯ সালে তিনি শুরু করেন ‘ইত্যাদি’ উপস্থাপনা। এটির রচয়িতা এবং পরিচালক হিসেবেও কাজ করেন তিনি। ‘ইত্যাদি’র মাধ্যমে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিলেও প্রয়াত ফজলে লোহানীর ‘যদি কিছু মনে না করেন’ ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে প্রথম খ্যাতি লাভ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:  লন্ডনে নিজের গান বেসুরে গেয়ে ট্রল হচ্ছেন ফারিণ

‘ইত্যাদি’তে হানিফ সংকেত তার উপস্থাপনায় কেবল হাস্যরসকে প্রধান্য দেন না। এর মাধ্যমে সমাজের নানা প্রচলিত অসঙ্গতির বিরুদ্ধে জোরালো কণ্ঠ রাখেন হানিফ সংকেত। অনুষ্ঠানের প্রতিটি পর্বে সমসাময়িক নিন্দিত ঘটনার বর্ণনা ও বিরোধিতা থাকে কিছুটা রম্য হলেও নজর কাড়ে সবার।

নিজের কাজের বিষয়ে খুবই যত্নশীল হানিফ সংকেত। নাটক পরিচালনাতেও নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন অনেক। তার পরিচালিত জনপ্রিয় নাটকের মধ্যে ‘আয় ফিরে তোর প্রাণের বারান্দায়’, ‘দুর্ঘটনা’, ‘তোষামোদে খোশ আমোদে’, ‘কিংকর্তব্য’, ‘কুসুম কুসুম ভালোবাসা’, ‘শেষে এসে অবশেষে’ উল্লেখযোগ্য।

চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন হানিফ সংকেত। বেশ কয়েকটি ব্যঙ্গ ও রম্য রচনা লিখেছেন তিনি। তার মধ্যে ‘চৌচাপটে’, ‘এপিঠ ওপিঠ’, ‘ধন্যবাদ, ‘অকান্ড কান্ড, ‘খবরে প্রকাশ’, ‘ফুলের মতো পবিত্র’, ‘প্রতি ও ইতি, ‘আটখানার পাটখানা’ অন্যতম।

আরও পড়ুন:  স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন ১০ বিশিষ্ট ব্যক্তি

এছাড়া উপস্থাপনার পাশাপাশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন হানিফ সংকেত। এছাড়া ‘প্রথম প্রেম’ নামে একটি সিনেমায় ‘তু তু তু তারা, মর্জিনার বাপ মার্কা মারা’ শিরোনামে একটি গানও গেয়েছেন তিনি।

গুণী এই ব্যক্তিত্ব ২০১০ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’ পেয়েছেন। পেয়েছেন ‘জাতীয় পরিবেশ পদক’ এবং ‘মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার’সহ দেশি-বিদেশি অনেক সম্মাননা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *