ঢাবিতে নারীর দিকে লাঠি হাতে তেড়ে আসা তরুণ হত্যা মামলার আসামি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) টিএসসি এলাকায় বুধবার ভোরে এক নারীর দিকে লাঠি হাতে তেড়ে আসা তরুণের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম মো. রাকিব। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুরে একটি হত্যা মামলার প্রধান আসামি বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

বুধবার ভোরে টিএসসি এলাকায় ওই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাকিব কালিয়াকৈর সফিপুর বাজার এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। সহপাঠীরা তাকে আহমেদ রাকিব নামে চেনেন। এলাকায় একটি হত্যা মামলার আসামি তিনি। একই মামলায় রাকিবের যমজ ভাই মো. সাকিবও আসামি। মামলাটি দায়েরের পর থেকে তারা পলাতক।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুই নারীর একজনের দিকে লাঠি হাতে তেড়ে আসছেন রাকিব। ওই নারী তখন কাঁদতে কাঁদতে বিচারের দাবি জানান। বলেন, পুরান ঢাকায় সাহ্‌রির খাবার খেয়ে টিএসসিতে এসেছি। একপর্যায়ে দুই নারীকে হেনস্তা করতে দেখা যায় ভিডিওতে।

আরও পড়ুন:  ফিলিস্তিনকে শিগগিরই স্বীকৃতি দেবে ইতালি: মেলোনি

এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর কালিয়াকৈরের সফিপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায় সাব্বির হোসেন নামে এক তরুণকে কুপিয়ে ১০তলা ভবনের ছাদ থেকে ফেলে হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় যে মামলা হয় তার মূল আসামি রাকিব ও তার যমজ ভাই সাকিব। ওই সময় আসামিদের গ্রেপ্তারে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ৯ সেপ্টেম্বর রাকিব, সাকিব ও সাব্বির একসঙ্গে একটি জিমে যান। সেখান থেকে বের হয়ে তারা রাকিব-সাকিবদের বাসা ইউনিক টাওয়ারের ছাদে ওঠেন। সঙ্গে ছিল স্থানীয় দুই কিশোর। পরে দুই কিশোরকে মুড়ি কিনতে দোকানে পাঠানো হয়। কিছুক্ষণ পর ওই দুই কিশোর ফিরে আসে এবং ভবনের নিচে রক্তমাখা অবস্থায় সাব্বিরকে পড়ে থাকতে দেখে। পরে তারা ছাদে গিয়ে সাব্বিরের কাটা নখ ও রক্তমাখা অস্ত্র পড়ে থাকতে দেখে।

আরও পড়ুন:  শিক্ষকদের জন্য বড় সুখবর, বাড়ছে বিভিন্ন ভাতা

এ ঘটনায় সাব্বিরের বড় ভাই মো. মহিউদ্দিন আবির বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকে রাকিব- সাকিব এলাকাছাড়া।

মামলার বাদী মহিউদ্দিন আবির সমকালকে বলেন, কালিয়াকৈর থানায় মামলাটি দায়ের হলেও অজ্ঞাত কারণে পরে মামলাটি চলে যায় গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। এই তথ্য তারা পরে জানতে পারেন। গোয়েন্দা পুলিশ দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে অভিযোগপত্র দিয়ে আদালতে পাঠায়। কিন্তু এখন পর্যন্ত আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়নি। আসামিদের বিভিন্ন সময় প্রকাশ্যে দেখা যায়। এই তথ্য পুলিশকে জানালেও তারা আসামিদের গ্রেপ্তারে কোনো তৎপরতা দেখায়নি।

তিনি আরও বলেন, এর আগে ডাকসু নির্বাচনের সময় রাকিবকে ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলামের সঙ্গে ক্যাম্পাসে প্রচার–প্রচারণায় দেখা গেছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি জায়গায় তাকে দেখা গেছে।

আরও পড়ুন:  ঢাবির ভর্তিতে জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের পরিবার পাবে বিশেষ সুবিধা

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, মামলাটি তদন্ত করেছে ডিবি পুলিশ। তাই তাকে গ্রেপ্তার করার দায়িত্বও তাদের। আদালত থেকে যদি ওয়ারেন্ট ইস্যু হয়, তবে তাকে গ্রেপ্তারের দায়িত্ব আমাদের।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসমত উল্লাহ বলেন, ‘দেশের নানা পরিস্থিতিতে আসামি গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালানো হয়নি। তবে এখন আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *