বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

রেকর্ড সাড়ে পাঁচ হাজার ডলারের মাইলফলক অতিক্রমের পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন লক্ষ্য করা গেছে। মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা বাড়ায় এই মূল্যবান ধাতুর দাম কমে গেছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী প্রধান হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প সাবেক গভর্নর কেভিন ওয়ার্শের নাম ঘোষণা করেন। এই ঘোষণার প্রাক্কালে ডলার শক্তিশালী হওয়ায় স্বর্ণর দামে বড় ধস নেমেছে। এদিন স্বর্ণের দাম ৮ শতাংশের বেশি পড়ে অল্প সময়ের জন্য প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারের নিচে নেমে যায়। তবে এত বড় পতনের পরও মাসিক হিসাবে স্বর্ণ ১৯৮২ সালের পর সবচেয়ে বড় উত্থানের পথে রয়েছে।

লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতায় অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও তীব্রভাবে কমেছে।

এদিন বাংলাদেশ সময় ৩টা ৩৭ মিনিটে স্পট স্বর্ণ ৫.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৮১.৫২ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। দিনের এক পর্যায়ে দাম নেমে আসে ৪ হাজার ৯৫৭.৫৪ ডলারে। ফেব্রুয়ারি ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার্স বাজারে স্বর্ণর দাম ৪.৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৮১.৭০ ডলারে।

আরও পড়ুন:  নৌকার মনোনয়ন পেলেন যারা

এক্সএস ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক রানিয়া গুলে বলেন, ‘দ্রুত উত্থানের পর এটিকে শক্তিশালী সংশোধন ও লাভ তুলে নেওয়ার প্রবণতা হিসেবে দেখছি। এতে অনেক বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠান তাদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করে ঝুঁকি কমিয়েছে।’

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার স্বর্ণর দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৫৯৪.৮২ ডলারে উঠেছিল। চলতি মাসে স্বর্ণর দাম ১৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং টানা ষষ্ঠ মাসের মতো উত্থানের পথে রয়েছে।

ডলার শক্তিশালী হয়েছে ট্রাম্প ফেডের পরবর্তী প্রধান হিসেবে সাবেক গভর্নর কেভিন ওয়ার্শকে মনোনয়ন দেওয়ার পর। তুলনামূলকভাবে ‘কঠোর নীতি সমর্থক’ হিসেবে পরিচিত কেভিনের মনোনয়নে বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়িয়েছে। ডলার শক্তিশালী হলে ডলারে মূল্যায়িত স্বর্ণ বিদেশি ক্রেতাদের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে।

ভারতে ভৌত স্বর্ণর প্রিমিয়াম দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। সম্ভাব্য আমদানি শুল্ক বাড়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগ চাহিদা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। চীনেও বিনিয়োগ ও গহনার চাহিদা বাড়ায় প্রিমিয়াম লাফিয়েছে।

আরও পড়ুন:  আইনগত সহায়তা দরিদ্র-অসহায় নাগরিকের অধিকার: আইনমন্ত্রী

বিশ্লেষক রস নরম্যান বলেন, ‘আমরা মনে করছি স্বর্ণর দাম আজকের তুলনায় আরও নিচে নামতে পারে। তবে ২০২৬ সালে গড়ে দাম ৫ হাজার ৩৭৫ ডলারে দাঁড়াবে এবং বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার ৪০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।’

অন্য মূল্যবান ধাতুগুলোর মধ্যে স্পট রুপার দাম ১৪.১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৯৯.৭৯ ডলারে নেমেছে। দিনের এক পর্যায়ে তা ৯৫.৭৯ ডলারেও নেমেছিল। বৃহস্পতিবার রুপার দাম রেকর্ড ১২১.৬৪ ডলারে উঠেছিল এবং চলতি মাসে ধাতুটির দাম ৪২ শতাংশ বেড়ে সেরা মাসিক পারফরম্যান্সের পথে ছিল।

নরম্যান বলেন, ‘রুপার উত্থানের পেছনে মৌলিক কারণ থাকলেও বাজারে স্পষ্টভাবে জল্পনাভিত্তিক অতিরিক্ত উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, যা এখন ঝরে পড়ছে।’

এদিকে প্লাটিনামের দাম ১২.৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ২ হাজার ২৯৮.৭৬ ডলারে নেমেছে। সোমবার ধাতুটি রেকর্ড ২ হাজার ৯১৮.৮০ ডলারে উঠেছিল। প্যালাডিয়ামের দামও ৯.৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮১৯.৭৫ ডলারে।

আরও পড়ুন:  ৩ কারণে দাম বাড়ছে স্বর্ণের, কমছে এক কারণে

সূত্র: রয়টার্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *