ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির (এনসিপি) প্রধান অজিত পাওয়ার এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিমানটির ক্রু ও পাওয়ারের দেহরক্ষীসহ আরও চারজন নিহত হয়েছেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বুধবার সকালে পাওয়ার মুম্বাই থেকে উড়ে পুনে জেলার বারামতি শহরে যাওয়ার সময় বারামতি বিমানবন্দরের কাছে তাকে বহনকারী ছোট বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে বিমানটি মুম্বাই থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরের বারামাতির উদ্দেশে উড়াল দেয়। এর ৪৫ মিনিট পর পৌনে ৯টার দিকে বিমানটি নামার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বিধ্বস্ত হয়। বিধ্বস্ত হওয়ার পরই বিমানটি আগুন ধরে যায়।
পুনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে দলীয় প্রার্থীদের হয়ে প্রচারের জন্য নিজেদের পরিবারের রাজনৈতিক শক্তিকেন্দ্র বারামাতি যাচ্ছিলেন তিনি। সেখানে চারটি জনসভায় উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল ভারতের বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ, এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা শারদ পাওয়ারের ভাতিজা অজিত পাওয়ারের।
ঘটনাস্থল থেকে আসা ভিডিওগুলোতে দেখা গেছে, খোলা একটি মাঠে বিমানটির ভগ্নাবশেষ পড়ে আছে, সেখানে আগুন জ্বলছে ও সেখান থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্সগুলো ছুটাছুটি করছে।
ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার মহাপরিচালক জানিয়েছেন, বিমানটির পাঁচ আরোহীর সবাই মারা গেছেন।
অজিত পাওয়ারের (৬৬) চাচাতো বোন সুপ্রিয়া সুলে ভারতের লোকসভার এমপি। ঘটনার সময় শারদ পাওয়ার ও সুলে রাজধানী নয়া দিল্লিতে ছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে তারা পুনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
ভারতের এক শীর্ষ রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান অজিত পাওয়ার ২০২৩ সালে এনসিপিতে এক বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। এর ফলে এনসিপি দুটি উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর একটির নেতৃত্বে থাকেন তার চাচা শারদ পাওয়ার ও অপরটির নেতা হন অজিত।
এরপর তিনি মহারাষ্ট্রের এনডিএ সরকারে যোগ দেন আর রাজ্যটির উপমূখ্যমন্ত্রী হন। পরে এনসিপির দুই উপদলের মধ্যে হওয়া আলোচনায় আবার একত্র হওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়। এর ফলে এক স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দুই উপদল এক হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামে।







