এবারের রমজান গতবারের চেয়ে স্বস্তিদায়ক হবে: বাণিজ্য উপদেষ্টা

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, এবারের রমজান গতবারের চেয়ে স্বস্তিদায়ক হবে।  গত বছরের তুলনায় এবার নিত্যপণ্যের আমদানি ৪০ শতাংশ বেশি হয়েছে।  আসন্ন রমজানে কিছু কিছু পণ্যের দাম কমবে। 

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক টাস্কফোর্স কমিটির বৈঠকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রয়োজনীয় যাবতীয় পণ্যের গত এক মাস ও এক বছরের ব্যবধানে দামের পার্থক্য তুলে ধরে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।  বৈঠক শেষে গণ্যমাধ্যমে বাণিজ্য উপদেষ্টা এ কথা বলেন। 

শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, টাস্কফোর্সের সভায় রমজানে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত করেছেন। আসন্ন রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকবে।  দাম বাড়বে না, বরং কিছু কিছু পণ্যের দাম আরও কমবে।  এবারের রমজানে নিত্যপণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যেই থাকবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী গত এক মাসে দেশে স্বর্ণা ও চায়নাসহ মোটা চালের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।  তবে এক বছরের ব্যবধানে এই চালের দাম ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে প্রতি কেজি ৫৪ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  বিপরীতে আন্তর্জাতিক বাজারে গত এক বছরে এই চালের দাম ১৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে প্রতি টন ৪২৩ মার্কিন ডলারে নেমেছে। যদিও এক মাসের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে এই মানের চালের দাম ৪ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়েছে।

আরও পড়ুন:  রাসুল (সা.)-এর রমজানের প্রস্তুতি যেমন ছিল

মাঝারি ও ছোট দানার মসুর ডালের দাম এক বছরের ব্যবধানে দেশের বাজারে বেড়েছে। তবে মোটা দানার মসুর ডালের দাম কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় ৩০ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং ভারতে ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ হারে মসুর ডালের দাম কমেছে। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা মূলত এই দুটি দেশ থেকেই মসুর ডাল আমদানি করে থাকেন।

বাংলাদেশের বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম গত এক মাসে ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং এক বছরে ১২ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে গত এক মাসে অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ কমেছে। এক বছরের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে এ পণ্যের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ২৭ শতাংশ।  একই সময়ে বাংলাদেশের বাজারে পাম অয়েলের দাম সামান্য বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে তা ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ কমেছে।

পেঁয়াজের দামে কিছুটা স্বস্তির তথ্য পাওয়া গেছে প্রতিবেদনে। গত এক মাসে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম ১৮ দশমিক ১৮ শতাংশ কমেছে। তবে এক বছরের ব্যবধানে এ পণ্যের দাম ২৪ দশমিক ১৪ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে দেশে নতুন পেঁয়াজ ওঠার মৌসুম শুরু হওয়ায় দাম কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন:  শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের সংসদে আলোচনা

গত এক মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে পরিশোধিত চিনির দাম ৫ শতাংশ বেড়েছে। এক মাসের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম ১ দশমিক ২০ শতাংশ বাড়লেও গত এক বছরে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বাজার—উভয় ক্ষেত্রেই প্রায় ১৫ শতাংশ হারে দাম কমেছে।

এছাড়া আদা, রসুন ও ছোলার দাম আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশের বাজারে বেশি কমেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। রমজান মাসে এই তিনটি পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পায়।

রমজান মাসে বাংলাদেশের বাজারে খেজুরের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।  ইফতারে খেজুর একটি অপরিহার্য খাদ্যপণ্য।  গত এক মাসে দেশের বাজারে আমদানিনির্ভর এ পণ্যের দাম ২ দশমিক ৬৭ শতাংশ কমে মানভেদে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।  আন্তর্জাতিক বাজারে খেজুরের দামের বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

বাণিজ্য উপদেষ্টা রমজানে পণ্য সরবরাহ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করলেও সভায় উপস্থাপিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় এবছর রমজান মাসে ভোজ্যতেলের সরবরাহ কম থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন:  ভারতকে যে হুঁশিয়ারি দিলেন ড. ইউনূস

সভায় জানানো হয়, রমজান মাসে দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ৩ লাখ টন। গত বছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ১ লাখ ৮ হাজার টন সয়াবিন তেল এবং ২ লাখ ৫৮ হাজার টন পাম অয়েলসহ মোট ৩ লাখ ৬৬ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল মোট ৩ লাখ ৭২ হাজার টন।

অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বরে সয়াবিন ও পাম অয়েল মিলিয়ে মোট ৩ লাখ ৯২ হাজার টন ভোজ্যতেল আমদানির জন্য ব্যবসায়ীরা ঋণপত্র (এলসি) খুলেছেন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪ লাখ ৫১ হাজার টন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *