আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি প্রচারণার আড়ালে ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করার বিষয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও সতর্কতা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) ইসির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের নজরে এসেছে যে, প্রচারণার নাম করে কতিপয় ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সাধারণ ভোটারদের এনআইডি ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে, যা আইনত দণ্ডনীয় এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশের পরিপন্থী।
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন, ২০১০ অনুযায়ী নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা কিংবা অন্যের এনআইডি বহন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও বেআইনি। প্রচারণার সময় কোনো প্রার্থী বা তাদের সমর্থকরা ভোটারদের কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন না। কমিশনের নজরে আসা এই অনিয়ম রোধেই জরুরি ভিত্তিতে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে এবং সবাইকে এই আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এনআইডি সংগ্রহের পাশাপাশি ভোটারদের প্রলোভন দেখানোর বিষয়েও কঠোর বার্তা দিয়েছে ইসি। বিজ্ঞপ্তিতে ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর বিধি-৪ এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিধি অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী এলাকায় বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানকে কোনো প্রকার চাঁদা, অনুদান বা উপহার প্রদান করতে পারবেন না। এমনকি ভবিষ্যতে কোনো সুযোগ-সুবিধা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়াও আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে।
কমিশনের পক্ষ থেকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলা হয়েছে, এনআইডি সংগ্রহ বা উপহারের প্রতিশ্রুতি প্রদান—উভয়ই বিদ্যমান নির্বাচনী আইন ও বিধি অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সকল নাগরিক, রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে এ ধরনের বেআইনি কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোর আহ্বান জানিয়েছে। এই নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।







