যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বাচ্চু রাজাকারের আত্মসমর্পণ

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে প্রথম মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত পলাতক আসামি ফরিদপুরের আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকার আত্মসমর্পণের আবেদন করেছেন। আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় সশরীরে হাজির হয়ে এ আবেদন দাখিল করেন তিনি। এরপর তিনি ট্রাইব্যুনাল থেকে বের হয়ে যান।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় আত্মসমর্পণের আবেদনের শুনানি হয়নি। গত বছরের অক্টোবরে দেশে ফিরে সাজা স্থগিত চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবেদন করেছিলেন তিনি। এরপর তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে সরকার।

ফরিদপুরের রাজাকার হিসেবে খ্যাত মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে একাত্তরে ফরিদপুর অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার শুরু হয় ২০১১ সালে। এরপরই তিনি ভারত হয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান। তার অনুপস্থিতিতেই ২০১৩ সালে ২১ জানুয়ারি যুদ্ধাপরাধ মামলার প্রথম রায়ে তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

আরও পড়ুন:  এক বুক সমুদ্র নিয়ে ভালোবাসতে বলতেন হুমায়ুন ফরীদি

বাচ্চু রাজাকার নামে পরিচিত এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগের মধ্যে সাতটিই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

বাচ্চু রাজাকারের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের রায়ে মুক্তিযুদ্ধকালে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, নয়জনকে অপহরণ, ১০ জনকে আটক রাখা, পাঁচ বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *