চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইলিয়াস জাভেদ

বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের সোনালি দিনের কিংবদন্তি নায়ক ইলিয়াস জাভেদ আজ বুধবার তাঁর শেষযাত্রায় বিএফডিসিতে এলেন—যে প্রাঙ্গণে একসময় অসংখ্যবার প্রাণের স্পন্দন ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে এবার আর ফেরা হলো না; এটি ছিল তাঁর জীবনের শেষ এফডিসি-আসা।

বিকেলে এফডিসিতে জাভেদের মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হন চলচ্চিত্রাঙ্গনের অসংখ্য শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক ও ভক্তরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বরেণ্য অভিনেতা আলমগীর, নায়ক উজ্জ্বল, পরিচালক দেওয়ান নজরুল, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর, ওমর সানী, প্রযোজক খোরশেদ আলম খসরু, নৃত্যপরিচালক আজিজ রেজা, জয় চৌধুরী, মুক্তিসহ আরও অনেকে।

এফডিসির মসজিদের পাশে রাখা হয় জাভেদের মরদেহ। সেখানে দাঁড়িয়ে শোক প্রকাশ করেন তাঁর সহকর্মী অভিনেতা-অভিনেত্রী ও নির্মাতারা। আসরের নামাজের পর অনুষ্ঠিত হয় জানাজা। ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় সিক্ত হয়ে শেষবারের মতো বিদায় জানানো হয় এই কিংবদন্তি শিল্পীকে।

আরও পড়ুন:  জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
বিকেল ৫টার দিকে এফডিসি থেকে জাভেদের মরদেহ উত্তরার উদ্দেশে রওনা হয়। দ্বিতীয় জানাজা শেষে বাদ মাগরিব সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাঁর লাশ দাফন করা হয়।

এর আগে আজ সকাল সোয়া ১১টায় উত্তরার নিজ বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ইলিয়াস জাভেদ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।

১৯৬৪ সালে উর্দু চলচ্চিত্র ‘নয়া জিন্দেগি’ দিয়ে নায়ক হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে জাভেদের। তবে ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘পায়েল’ সিনেমাই তাঁকে এনে দেয় ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা। ওই ছবিতে তাঁর নায়িকা ছিলেন শাবানা।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে জাভেদ উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র। তাঁর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ‘মালেকা বানু’, ‘নিশান’, ‘পাপী শত্রু’, ‘রক্ত শপথ’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’, ‘কাজল রেখা’, ‘অনেক দিন আগে’, ‘আজও ভুলিনি’, ‘কঠোর’, ‘মা বাবা সন্তান’, ‘রাখাল রাজা’, ‘রসের বাইদানী’, ‘জীবন সঙ্গী’, ‘আবদুল্লাহ’সহ আরো বহু চলচ্চিত্র।

আরও পড়ুন:  পরিবর্তনের দাবিতে বিসিবিতে ক্রিকেট সংগঠকরা
ইলিয়াস জাভেদের প্রয়াণে বাংলা চলচ্চিত্র হারাল এক উজ্জ্বল অধ্যায়—যার নাচ, অভিনয় ও উপস্থিতি আজও দর্শকের স্মৃতিতে অম্লান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *