মেরাজের রাতে আল্লাহর দেওয়া ৩ উপহার

ইসরা ও মেরাজ বিশ্বনবি মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ও মুজিজা। নবিজির (সা.) মক্কায় অবস্থানকালীন সময়ের শেষ দিকে এক রাতে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে প্রথম মসজিদুল আকসায় নিয়ে যাওয়া হয়, মসজিদুল আকসা থেকে উর্ধ্বজগত ভ্রমণে নিয়ে যাওয়া হয়। মক্কা থেকে মসজিদুল আকসা পর্যন্ত নবিজির (সা.) রাতের ভ্রমণ ইসরা নামে এবং মসজিদুল আকসা বা বাইতুল মুকাদ্দাস থেকে উর্ধ্বাজগত ভ্রমণ মেরাজ নামে পরিচিত।

মেরাজের রাত নিয়ে সহিহ হাদিস

ইসরা ও মেরাজের রাতে আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়াতাআলা নবিজিকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার কিছু বড় নিদর্শন দেখিয়েছিলেন এবং তাকে অনেক নেয়ামতও দান করেছিলেন। সহিহ মুসলিমে সংকলিত একটি হাদিসে এসেছে, মেরাজের রাতে নবিজিকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিনটি উপহার বা হাদিয়া দেওয়া হয়েছিল:

  • ১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ।
  • ২. সুরা বাকারার শেষ কয়েকটি আয়াত।
  • ৩. নবিজির (সা.) উম্মতের মধ্যে যারা শিরক করেনি, তাদের ক্ষমা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।
আরও পড়ুন:  উপদেষ্টা হাসান আরিফের মৃত্যুতে সোমবার রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, যে রাতে আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভ্রমণ করানো হয়, তাকে সিদরাতুল মুনতাহায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সিদরাতুল মুনতাহা ষষ্ঠ আকাশে অবস্থিত। জমিন থেকে যা ওপরে ওঠে তা সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত গিয়ে থেমে যায়, ওপর থেকে যা নেমে আসে তাও ওই জায়গায় থামে এবং ওই জায়গা থেকে গ্রহণ করা হয়। (অর্থাৎ সিদরাতুল মুনতাহা ফেরেশতাদের যাতায়াতের শেষ সীমা। তারা ওই পর্যন্তই যেতে পারেন। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ তারা ওই জায়গা থেকেই শোনেন ও গ্রহণ করেন।)

এরপর ইবনে মাসউদ (রা.) কোরআন মাজিদের এ আয়াতটি পাঠ করলেন

اِذۡ یَغۡشَی السِّدۡرَۃَ مَا یَغۡشٰی

আয়াতের বাংলা অর্থ 

যখন বৃক্ষটি যা দ্বারা আচ্ছাদিত হওয়ার ছিল তা দ্বারা আচ্ছাদিত হয় (সুরা নাজম: ১৬)।

আরও পড়ুন:  মেরাজের রাতে বিশ্বনবি কী দেখেছেন?

এ আয়াতের ব্যাখ্যা করে তিনি বললেন, এগুলো ছিল স্বর্ণের পতঙ্গ। তারপর ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসুলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মেরাজের রাতে তিনটি জিনিস দেওয়া হয়েছে: ১. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। ২. সুরা বাকরার শেষ কয়েকটি আয়াত ৩. নবিজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উম্মতের মধ্যে যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করেনি, তাদের ক্ষমা করার প্রতিশ্রুতি। (সহিহ মুসলিম: ২৭৯)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *