ইরানের হুমকির পর মার্কিন কর্মীদের কাতারের ঘাঁটি ছাড়ার পরামর্শ

ইরানে আন্দোলনকারীদের ওপর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। এর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ট্রাম্পের হুমকির পর তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, হামলা হলে তারা কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং যেসব প্রতিবেশী দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, তাদের ওপরও আঘাত হানবে।

এমন পরিস্থিতিতে কাতারে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের সবচেয়ে বড় মার্কিন বিমানঘাঁটি ‘আল-উদেইদ’ থেকে কিছু কর্মীকে আজ বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট তিনজন কূটনীতিকের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স আজ এ তথ্য জানিয়েছে।

আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছে। কূটনীতিকেরা এই পদক্ষেপকে ‘অর্ডারড ইভাকুয়েশন’ বা বাধ্যতামূলক সরিয়ে নেওয়া বলতে নারাজ, বরং একে ‘পোশ্চার চেঞ্জ’ বা পরিস্থিতির নিরিখে কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এর সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। দোহায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

আরও পড়ুন:  যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন এরদোগান

উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন বিমান হামলার ঠিক এক সপ্তাহ আগেও একইভাবে মার্কিন ঘাঁটি থেকে কিছু কর্মী ও তাঁদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। পরে ইরান সেই হামলার প্রতিশোধ নিতে কাতারের এই ঘাঁটিতেই মিসাইল হামলা চালিয়েছিল।

ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আজ জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন যদি ইরানের ওপর কোনো সামরিক হামলা চালায়, তবে তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের সেইসব দেশকেও ছাড় দেবে না, যেখানে মার্কিন ঘাঁটি আছে। ইরান ইতিমধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোকে সতর্ক করে বলেছে—মার্কিন হামলা হলে তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হবে।

ইরানের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৬০০ ছাড়িয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শক্ত ব্যবস্থা’ নেবে। তিনি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘সাহায্য আসছে।’ ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণেই মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আল-উদেইদ ঘাঁটি থেকে কর্মীদের সরে যাওয়ার এই পরামর্শ বড় কোনো সামরিক সংঘাতের পূর্বাভাস হতে পারে।

আরও পড়ুন:  আট দফায় কমার পর বাড়ল সোনার দাম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *