ভিসা বন্ড শর্তাবলি পুনর্বিবেচনা করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: আন্ডার সেক্রেটারি

বাংলাদেশে ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন প্রত্যাশা করছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতি দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে দেশটি।

ওয়াশিংটন সফররত জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকার এ প্রত্যাশার কথা জানান। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে খলিলুর রহমান বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও আয়োজনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদকালে নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জবাবে অ্যালিসন হুকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতি দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রাখবে এবং ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করে।

আলোচনায় খলিলুর রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কৃষিপণ্য আমদানি বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক ভিসা বন্ডের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ সহজীকরণের অনুরোধ জানান। বিশেষ করে স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক বি-১ ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভিসা বন্ড থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন:  মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরণে ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে তদন্ত কমিটি

এ বিষয়ে অ্যালিসন হুকার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে। ভবিষ্যতে পর্যটকদের অতিরিক্ত সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলে ভিসা বন্ড–সংক্রান্ত বর্তমান শর্তাবলি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি অনিবন্ধিত বাংলাদেশিদের প্রত্যাবর্তনে বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

গাজায় প্রস্তাবিত মোতায়েনযোগ্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর অংশ হতে নীতিগতভাবে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও খলিলুর রহমান বৈঠকে তুলে ধরেন। অ্যালিসন হুকার বলেন, এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে খলিলুর রহমান বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। যুক্তরাষ্ট্র যে রোহিঙ্গাদের জন্য সর্ববৃহৎ দাতা, তা উল্লেখ করে তিনি এ সহায়তা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান। জবাবে অ্যালিসন হুকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বড় ধরনের বোঝা বহন করার জন্য বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান এবং তারা যত দিন বাংলাদেশে অবস্থান করবে, তত দিন তাদের জীবিকাভিত্তিক সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেন।

আরও পড়ুন:  ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে’ অংশ নিতে সন্ধ্যায় ঢাকা ছাড়ছেন ফখরুল, খসরু

বৈঠকে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি অর্থায়নে প্রবেশাধিকার এবং দেশে সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়নে অর্থায়নের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও উত্থাপন করেন খলিলুর রহমান। আন্ডার সেক্রেটারি জানান, এসব প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র বিবেচনা করবে।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইংয়ের মিনিস্টার গোলাম মোর্তুজা জানান, স্থানীয় সময় অনুযায়ী ৯ জানুয়ারি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারির পাশাপাশি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় আসন্ন নির্বাচন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, ভিসা বন্ড ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।

এ ছাড়া সফরকালে খলিলুর রহমান বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানেও অংশ নেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *