জাতিসংঘের ৩১টিসহ ৬৬ সংস্থা-জোট ছাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে- যার প্রায় অর্ধেকই জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে জলবায়ু, শ্রম, অভিবাসন ও সামাজিক নীতিনির্ধারণ সংক্রান্ত বহু সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা বন্ধ হতে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস এসব সংস্থাকে এমন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত বলে চিহ্নিত করেছে, যেগুলোকে তারা বৈচিত্র্য ও ব্যয় কমানোর এজেন্ডার অংশ হিসেবে দেখে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, এসব সংস্থা ও জোটের মধ্যে কয়েকটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী এজেন্ডা নিয়ে কাজ করছিল।

জার্মানীর একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত অনেক সংস্থাই জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট এজেন্সি ও প্যানেল- যেগুলো জলবায়ু পরিবর্তন, শ্রম অধিকার, অভিবাসন ও সামাজিক নীতিনির্ধারণে কাজ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত নতুন নয়। এর আগেও ট্রাম্প প্রশাসন প্যারিস জলবায়ু চুক্তি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউনেসকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তাকারী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএসহ বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থার তহবিল কমিয়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন:  ভোরে পর্দা উঠছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের

গত বছর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএইডের মাধ্যমে বিদেশি সহায়তা বড় পরিসরে কমিয়ে দেয়। এর ফলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ ও বৈশ্বিক জনস্বাস্থ্য খাতে কাজ করা বেশ কয়েকটি জাতিসংঘ সংস্থা কার্যক্রম সীমিত করতে বাধ্য হয়।

গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, জলবায়ু বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান আরও কঠোর হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ও বিশ্বের শীর্ষ বৈজ্ঞানিক সংস্থা থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে- যখন ট্রাম্প দেশের ভেতরে জীবাশ্ম জ্বালানির পক্ষে আগ্রাসী অবস্থান নিয়েছেন।

ট্রাম্প বারবার জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘প্রতারণা’ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে ‘স্ক্যাম’ বলে মন্তব্য করেছেন।

হোয়াইট হাউস প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থা-জোট ছাড়ছে যুক্ত্ররাষ্ট্র।

যেসব সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে যাচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে- আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্যানেল (আইপিসিসি), জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি), আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থা (আইরেনা), আন্তর্জাতিক অভিবাসন ও উন্নয়ন ফোরাম, ইউএন উইমেন, ইউএন পপুলেশন ফান্ড, ইউএন এনার্জি, ইউএন ওয়াটার এবং ইউএন ইউনিভার্সিটিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জাতিসংঘ সংস্থা ও প্ল্যাটফর্ম।

আরও পড়ুন:  পানামা অভিযান - সবশেষ যে প্রেসিডেন্টকে দেশ থেকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র

সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও বৈশ্বিক সহযোগিতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জলবায়ু, মানবাধিকার ও উন্নয়ন খাতে দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব পড়তে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *