তিন দশকে সাফল্যের মাইলফলক স্পর্শ করল চেরি ব্লোসমস ইন্টারঃ স্কুল

চেরি ব্লোসমস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের তিন দশক পূর্তি উদযাপন চেরি ব্লোসমস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার ৩০ বছর পূর্ণ করলো আজ। শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিনব দিগন্ত উন্মোচনের দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বরেণ্য শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক ও নারী উদ্যোক্তা ড. সালেহা কাদের ১৯৯৬ সালে ঢাকার মিরপুরে এই ইংলিশ মিডিয়াম প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। গত তিন দশক ধরে মনোরম পরিবেশে ইউকে কারিকুলামের আলোকে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছে এই প্রতিষ্ঠান। শিক্ষার গুণগত মান ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি সাফল্যের এক অনন্য মাইলফলক সৃষ্টি করেছে। ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এতে আমন্ত্রিত অতিথি, শিক্ষক, অভিভাবক, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, পিঠা উৎসব এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল ড. সালেহা কাদের। সঞ্চালনায় ছিলেন ভাইস প্রিন্সিপাল ড. আফসানা আমিন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলোক হাসপাতাল ও হেলথ কেয়ার লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. লোকমান হোসেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পিয়ারসন অ্যাডেক্সেল এর আঞ্চলিক উন্নয়ন ব্যবস্থাপক (বাংলাদেশ ও নেপাল) মোহাম্মদ শাহিন রেজা, লার্নিং রিসোর্স নেটওয়ার্কের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার তানভীর এইচ রুমেন, ক্যামব্রিজ বোর্ড ইউকে-এর কান্ট্রি হেড নকিব হায়দার, এবং ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার সৈয়দ ফাহিম ফয়সাল প্রমুখ।

আরও পড়ুন:  ‘ক্ষমতা দেয়ার ও নেয়ার মালিক আল্লাহ্’

শুরু থেকেই স্বল্প টিউশন ফি’র মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করে আসছে।

ড. সালেহা কাদের বলেন, “আজ আমাদের জন্য একটি স্মরণীয় দিন। প্রথম পথচলার স্মৃতি আজও হৃদয়ে জাগরুক। আমি আমার মা-বাবা, স্বামী ও সন্তানদের স্মরণ করছি—যাদের সহযোগিতায় আজ আমরা এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি। এই প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরাই এই সফলতার প্রকৃত ভিত্তি। মিরপুরের প্রথম ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হিসেবে আমরা গৌরবের সঙ্গে তিন দশক অতিক্রম করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা নয়; বরং জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে ভালো মানুষ হওয়া। সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক চিন্তার বাইরে থেকে সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ফলে আমরা দেশ-বিদেশে স্বীকৃতি ও সম্মান অর্জন করেছি।”

আরও পড়ুন:  শিক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে সাউথ আফ্রিকা গেলেন শিক্ষাবিদ ড. সালেহা কাদের

বিশ্বায়নের যুগে দক্ষ বিশ্ব নাগরিক গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে এসে শিক্ষাকে আনন্দময় করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে জাতীয় দিবসসমূহ উদযাপন, আবৃত্তি, সংগীত, চিত্রাঙ্কন, হামদ-নাতসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে অবদান রেখে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। এখানে শিশুদের বাংলা সংস্কৃতির সাথে পরিচয় করাতে হাসন-রাজার গান, লালনের গান, বৈশাখী গান, জারি-সারি, ভাটিয়ালি, পালাগান ও পুঁথিপাঠ শেখানো হয়। পাশাপাশি জাতীয় শোক দিবস, ভাষা দিবস, মহান স্বাধীনতা দিবসসহ নানা দিবসে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

করোনা মহামারির সময়ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ব্যহত না করতে অনলাইন ক্লাস চালু রাখা হয়। প্লে গ্রুপ থেকে শুরু করে আইজিএসই ও আইএএল পর্যায় পর্যন্ত সকল শ্রেণির ক্লাস অনলাইনে পরিচালিত হয়েছিল। পাঠ্যবিষয়ের পাশাপাশি কাব-স্কাউটিং, নাচ, গান ও শরীরচর্চার ক্লাসও অব্যাহত ছিল। শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে প্রতিষ্ঠানে রয়েছে একাধিক ক্লাব।

আরও পড়ুন:  বিশ্লেষণ বিবিসির প্রতিবেদন /ইরানে মার্কিন হামলার ৭ সম্ভাব্য পরিণতি

অভিভাবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে গঠন করা হয়েছে ‘চেরি ব্লোসমস মাদার্স ক্লাব’—যেখানে স্বাস্থ্য পরামর্শ, আইনগত সহায়তা, রান্না শেখানো, ফ্রি ইংলিশ লার্নিং কোর্সসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিশ্বজুড়ে আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন মানসম্মত বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ নিয়ে অধ্যয়ন করছে। এছাড়া ভাইস প্রিন্সিপাল ড. আফসানা আমিন আন্তর্জাতিক সংগঠন ISAC-এর একজন গর্বিত সদস্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *