বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিশ্ব রাজনীতিতে। দক্ষিণ এশিয়ার এই প্রভাবশালী নেত্রীর প্রয়াণে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান। এছাড়া ঢাকায় বিভিন্ন দেশের মিশন, জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও গভীর শোক প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এসব বিদেশি মিশন তাদের ফেসবুক পেজে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানায়। শোকবার্তায় তারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, ত্যাগ এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে তার অবদানের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।
পাকিস্তানের শোক- ‘একজন নিবেদিতপ্রাণ বন্ধুকে হারালাম: পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব এবং ত্যাগ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এক আবেগঘন বার্তায় খালেদা জিয়াকে ‘পাকিস্তানের নিবেদিতপ্রাণ বন্ধু’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে খালেদা জিয়ার আজীবন অবদান অবিস্মরণীয়। পাকিস্তান সরকার ও জনগণ এই কঠিন সময়ে বাংলাদেশের মানুষের পাশে আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারও আলাদা বার্তায় শোক প্রকাশ করেছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শ্রদ্ধা: ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তার শোকবার্তায় খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশটির উন্নয়নে এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদারে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান সবসময় স্মরণ করা হবে। ২০১৫ সালে ঢাকা সফরের সময় খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার ‘উষ্ণ সাক্ষাতের’ স্মৃতিচারণ করে মোদি আশা প্রকাশ করেন যে, খালেদা জিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি ও উত্তরাধিকার ভবিষ্যতে দুই দেশের অংশীদারত্বকে পথ দেখাবে।
চীনের শোক- ‘পুরোনো বন্ধুর বিদায়’: চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। লি কিয়াং লিখেছেন, খালেদা জিয়া ছিলেন চীনের জনগণের একজন পুরোনো বন্ধু। তার প্রধানমন্ত্রিত্বকালেই চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছিল এবং দুই দেশের মধ্যে সর্বাত্মক সহযোগিতামূলক অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। চীনের পক্ষ থেকে তার অবদানকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যায়ন- ‘আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার’: ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক জানিয়েছে। বার্তায় বলা হয়, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের আধুনিক ইতিহাস গঠনে এবং দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করেছেন।
বাংলাদেশে জাতিসংঘের দপ্তর তাদের ফেসবুক পোস্টে লিখেছে, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদে আমরা গভীর শোকাহত। শোকাবহ এই পরিস্থিতিতে আমরা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবার এবং তার প্রিয়জনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। এ সময়ে আমরা বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করছি।’
ঢাকায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন দূতাবাস তাদের ফেসবুকে পেজে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।
ফ্রান্সের দূতাবাস তাদের ফেসবুক পেজে বলেছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের প্রথম নারী সরকারপ্রধান খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশে অবস্থিত ফরাসি দূতাবাস গভীর শোক প্রকাশ করছে। খালেদা জিয়া বাংলাদেশের জাতীয় জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এই শোকের সময়ে ফ্রান্স তার পরিবার, তার দল এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছে। তার অবদান স্মরণীয় হয়ে কবে।
জার্মানি দূতাবাসের ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বেগম জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। গত কয়েক দশকে তার সঙ্গে জার্মানির সম্পৃক্ততার কথা স্মরণ করছে জার্মানি। এর মধ্যে রয়েছে ২০০৪ সালে ঢাকায় জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োশকা ফিশারের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ এবং ২০১১ সালে রাষ্ট্রীয় সফরে জার্মানির প্রেসিডেন্ট ক্রিশ্চিয়ান উলফের সঙ্গে বৈঠক। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে জার্মানির জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।
ফেসবুক পেজে আরও লেখা হয়েছে, এই শোকের মুহূর্তে জার্মানি জাতীয় জীবনে তার (খালেদা জিয়া) অবদানকে সম্মান জানাচ্ছে এবং তার পরিবার, দল ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছে। জার্মানি আমাদের দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি শান্তিতে বিশ্রাম নিক।
কানাডা হাইকমিশন তাদের ফেসবুকে লিখেছে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। তার মৃত্যুতে তার পরিবার ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কানাডা আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করছে। এই কঠিন সময়ে তার পরিবার যেন শক্তি ও সান্ত্বনা খুঁজে পায়—এ কামনা করেছে কানাডা।
যুক্তরাজ্যের ফেসবুক পেজে লেখা হয়েছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের সংবাদে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। অত্যন্ত বেদনাদায়ক এই সময়ে তার পরিবার, স্বজন ও বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমরা আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।
জাপান দূতাবাস তাদের ফেসবুক পোস্টে লিখেছে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে খালেদা জিয়া দুবার জাপান সফর করেন এবং আমাদের দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে মূল্যবান অবদান রাখেন। তার নিষ্ঠা ও উল্লেখযোগ্য অর্জনের জন্য আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তার আত্মা চিরশান্তিতে বিশ্রাম নিক।
অস্ট্রেলিয়া হাইকমিশন ফেসবুক পেজে লিখেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা।
ইরান দূতাবাস খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশের জনগণ ও বিএনপির নেতা–কর্মীর প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করছে।
শোক বার্তায় বলা হয়, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন বিশিষ্ট জাতীয় নেতা। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং তার দীর্ঘ কর্মজীবনে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও জনকল্যাণে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তার প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় ছিল।







