যুদ্ধবিরতিতে সম্মত থাইল্যান্ড- কম্বোডিয়া

নতুন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। তিন দিন ধরে আলোচনার পর আজ শনিবার যুদ্ধবিরতিতে স্বাক্ষর করেছে দুই দেশ। এর মাধ্যমে প্রাণঘাতি এই সংঘাত শেষ হলো।

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যকার সীমান্ত বিরোধটা দীর্ঘদিনের। চলতি মাসে নতুন করে দুই দেশের আন্তসীমান্ত সংঘাত শুরু হয়। এতে জুলাইয়ে হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়। যুদ্ধে উভয় দেশের ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। দুই দেশের সীমান্ত এলাকার ৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। খবর আল জাজিরা ও এএফপির। 

আজ দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘উভয় পক্ষ এই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরের পরমুহূর্ত থেকে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের বিষয়ে সম্মত হয়েছে, যা ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা (স্থানীয় সময়) থেকে কার্যকর হচ্ছে। এ যুদ্ধবিরতির আওতায় সাধারণ নাগরিক, নাগরিক অবকাঠামো এবং প্রতিপক্ষের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলাসহ সব ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ থাকবে।’

আরও পড়ুন:  ‘ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যা চালানো হতে পারে’, শঙ্কা ইরানের নোবেলজয়ী শিরিনের

যুদ্ধবিরতিতে স্বাক্ষর করেছেন থাইল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নাথাফোন নারকফানিট এবং কম্বোডিয়ান প্রতিরক্ষামন্ত্রী টি সেইহা। এর মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলা ২০ দিনের সংঘাতের অবসান হলো।

চুক্তি অনুয়ায়ী, যুদ্ধবিরতি ঘণ্টা ৭২ ঘণ্টা পার হলে থাইল্যান্ড আটক ১৮ কম্বোডিয়ান সৈন্যকে মুক্তি দেবে। একইসঙ্গে উভয় দেশ ‘উত্তেজনা বৃদ্ধি করতে পারে এমন উস্কানিমূলক পদক্ষেপ’ গ্রহণ থেকে বিরত থাকবে। এছাড়া উত্তেজনা প্রশমনের জন্য ‘মিথ্যা তথ্য প্রচার’ এড়াতে সম্মত হয়েছে।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংগঠনের (আসিয়ান) পর্যবেক্ষকদের একটি দল বর্তমান চুক্তির বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করবে। আরও বলা হয়েছে যে, উভয় দেশই স্থলভাগে সম্ভাব্য যেকোনো সমস্যা ‘সমাধানের জন্য’ উন্মুক্ত যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।

দুই দেশ মাইন অপসারণ এবং সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সহযোগিতা করতেও একমত হয়েছে।

আরও পড়ুন:  গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাস জাতিসংঘে

দুই দেশের সীমান্তবর্তী বিরোধপূর্ণ অঞ্চলের প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে চলমান লড়াই থামাতে দুপুর ১২টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সীমান্ত আলোচনা শুরু হয়। তিন দিনের আলোচনা শেষে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড দুই দেশই আসিয়ানের সদস্য।

যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং মালয়েশিয়াও বিবদমান দুই প্রতিবেশী দেশকে নতুন করে যুদ্ধবিরতি শুরু করার জন্য চাপ দিচ্ছিল।

এই তিন দেশ গত জুলাই মাসে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে পাঁচ দিনের প্রাণঘাতী সংঘাত থামাতে একটি যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছিল। তবে সেই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হয়নি।

থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে সংঘাতের মূল কারণ হলো ঔপনিবেশিক যুগে এ দুই দেশের মধ্যে তৈরি হওয়া ৮০০ কিলোমিটার (৫০০ মাইল) দীর্ঘ সীমান্ত। সেখানে থাকা প্রাচীন মন্দিরগুলোকে উভয় দেশই নিজেদের বলে দাবি করে।

আরও পড়ুন:  জেলেনস্কির যুদ্ধবিরতির আহ্বান সমর্থন করলেন এরদোয়ান

জুলাইয়ে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের মধ্যে পাঁচ দিনের লড়াইয়ে অনেক মানুষ মারা যায়। পরে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মালয়েশিয়ার মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তি হয়, কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই তা ভেঙে যায়।

চলতি মাসে নতুন লড়াই শুরু হলে উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করে এবং সাধারণ মানুষকে নিশানা করে হামলার অভিযোগ করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *