সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসবে না: মোদি

কাশ্মীর হামলার ঘটনায় পাকিস্তানকে দায়ী করে কয়েক দশকের পুরোনো সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি বাতিল করেছে ভারত। আর এই সিদ্ধান্ত থেকে যে সরে আসবে না ভারত এবার সেই ঘোষণা দিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে মোদি বলেন, পাকিস্তানের সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসবে না। খবার এনডিটিবির

এর আগে গত ২২ এপ্রিল কাশ্মীরে বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ পর্যটকের প্রাণহানি ঘটে। যার জন্য পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ও ‘ডিপ স্টেট’র প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে বলে অভিযোগ ভারতের বিজেপি সরকারের।

শুধু তাই নয় আগেও সীমান্ত পেরিয়ে হামলা সহায়তার অভিযোগ করেছে ভারত। যদিও পাকিস্তান সরকার হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার এবং নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি করেছে। তবে এসবের মাঝে দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুদেশই হুমকি পাল্টা হুমকি দিচ্ছে একে অন্যকে। যার জেরে বেশ কিছু চুক্তি থেকেও সরে এসেছে দুদেশ। যার মধ্যে সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি অন্যতম। যা নিয়েই এবার কথা বলেছেন মোদি।

আরও পড়ুন:  ভরা মওসুম সত্ত্বেও পর্যটকশূন্য কক্সবাজার

মঙ্গলবার সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি বাতিলের বিষয়ে মোদি বলেন, পাকিস্তানে পানি সরবরাহ করার সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসবে না। ভারতের পানি ভারতের স্বার্থেই ব্যবহার করা হবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজকাল গণমাধ্যমে পানি নিয়ে প্রচুর আলোচনা হচ্ছে…এমনকি এর আগে ভারতের অধিকারে ছিল এমন পানিও দেশের বাইরে প্রবাহিত হয়েছে। এখন কেবল ভারতের উপকারের জন্যই ভারতের পানি প্রবাহিত হবে। এই পানি ভারতের সুবিধার জন্য সংরক্ষণ এবং ভারতের উন্নতির জন্য ব্যবহার করা হবে।’

উল্লেখ্য, কাশ্মীর হামলার ঘটনার পরপরই ভারতের সরকার পাকিস্তানি নাগরিকদের সব ধরনের ভিসা বাতিল এবং ৬৫ বছর পুরোনো সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা দেয়। সিন্ধু ও এর দুটি উপনদীর পানি ব্যবহার করে পাকিস্তানের প্রায় ৮০ শতাংশ কৃষিজমিতে সেচ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী, সিন্ধুর পানি সরিয়ে নেওয়ার জন্য ভারত অতিরিক্ত জলাধার নির্মাণ করতে পারতো না। কিন্তু চুক্তিটি স্থগিত করায় ভারত নতুন বাঁধ ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের কাজ শুরু করেছে।

আরও পড়ুন:  ইমরানের দলের স্বতন্ত্ররা ৬২, নওয়াজ ৩১, বিলাওয়াল ২৮

নয়াদিল্লির এসব পদক্ষেপের জবাবে ভারতের সঙ্গে ভিসা ও ১৯৭২ সালের শিমলা চুক্তি স্থগিত করে পাকিস্তান। একই সঙ্গে সিন্ধু পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত করা হলে তা ‘যুদ্ধ ঘোষণার শামিল’ হবে বলে জানিয়ে দেয় ইসলামাবাদ। চলমান উত্তেজনায় উভয় দেশই সীমান্ত ও আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *