বিয়ে নিয়ে পুত্রের প্রতি পিতার উপদেশ

একটি পরিবারের মূল ভিত্তি হল স্বামী ও স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক। বিয়ে শুধু দু’জনের মধ্যে মিলন নয়, দুই পরিবারের মধ্যেও সম্পর্কের সেতু বন্ধন রচনা করে। যা যুগ যুগ ধরে টিকে থাকে। একই ছাদের নিচে থেকে তারা এক সাথে সন্তানের পিতা-মাতা হন। বিয়ের পর মেয়েরা পরিবার-পরিজন ছেড়ে স্বামীর ঘরে আসে। নতুন পরিবেশে শুরু হয় আমৃত্যু পথচলা। মিলন বিরহের এই পরিক্রমায় একজন মেয়ের সব থেকে বেশি প্রয়োজন হয় স্বামীর ভালোবাসা ও সার্বিক সহযোগিতা।

প্রতিটি বাবা-মা চায় তাঁর সন্তান সুখে থাকুক। পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাবে স্বামীর সংসারে এসে কষ্ট পেতে হয় অনেক মেয়েকেই। আমাদের সমাজে বিয়ের পরবর্তী সম্পর্কগুলো অনেক সময় সুখকর হয় না। বিয়ের উপযুক্ত হলে প্রতিটি বাবা মায়ের উচিত তাঁর সন্তানকে এই উপদেশগুলো দেয়ার। যাতে করে সে তাঁর স্ত্রীর যোগ্য সম্মান দিতে পারে। বিয়ে নিয়ে পুত্রের প্রতি পিতার উপদেশগুলো নিন্মে দেয়া হল-

আরও পড়ুন:  সাংবাদিক নির্যাতন ও পুলিশ হত্যার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরুন : প্রধানমন্ত্রী

বাবা বললেন, তোমার দাদা বলেছিলেন,
১. নতুন বউকে পালকি করে কেন আনা হয় জানিস? তাকে তো গরুর গাড়িতেও আনা যেত।
তা না করে পালকিতে আনা হয়, কারণ সে কত সম্মানিত তা বোঝানোর জন্য।
পালকিতে নামানোর পর এ সম্মান কমানো যাবে না। সারাজীবন পালকির সম্মানেই তাকে রাখতে হবে।
২. নতুন বউ পালকিতে উঠে কী করে জানিস?
কাঁদে। কেন কাঁদে?
শুধু ফেলে আসা স্বজনদের জন্য না।
নতুন জীবন কেমন হবে সে ভয়েও কাঁদে।
তোর চেষ্টা হবে পালকির কান্নাই যাতে তার শেষ কান্না হয়।
এরপর আর মাত্র দুটো উপলক্ষ্যে সে কাঁদবে।
একটি হলো মা হওয়ার আনন্দে, আরেকবার কাঁদবে তুই চলে যাওয়ার পর।
মাঝখানে যত শোক আসবে তুই তার চোখের পানি মুছে দিবি।

আরও পড়ুন:  রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নবনিযুক্ত সেনাবাহিনী প্রধান সৌজন্য সাক্ষাৎ

৩. স্ত্রী সবচেয়ে কষ্ট পায় স্বামীর বদব্যবহারে,
দেখ আমি খুবই বদমেজাজি,
কিন্তু কেউ বলতে পারবে না আমি তোর মায়ের সাথে কোনোদিন উঁচু গলায় কথা বলেছি।

৪. বিয়ে মানে আরেকটি মেয়ের দায়িত্ব নেওয়া।
এটা ঠিকভাবে পালন না করলে আল্লাহর কাছে দায়ী থাকতে হয়।

৫. আরেকটি কথা, সব মেয়ের রান্নার হাত ভালো না, কিন্তু সবাই রান্না ভালো করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।
তাই রান্না নিয়ে বউকে কখনো খোঁটা দিবি না।

৬. বউয়ের মা-বাবাকে কখনো ‘আমার শ্বশুর, আমার শাশুড়ি’ এগুলো ডাকবি না।
মা-বাবা ডাকবি।
আগের ডাকগুলো কোনো মেয়ে পছন্দ করে না, তুই ওগুলো ডাকলে বউও আমাদের ওই ডাকেই ডাকবে।

তুই ওনাদের সম্মান না করলে সে আমাদের সম্মান করবে না।
এটাই নিয়ম।
আল্লাহতালার পাল্লা সমান, এক পাল্লায় তুই যা করবি, আরেক পাল্লায় তিনি তাই রেখে দুই পাল্লার ওজন ঠিক রাখেন।

আরও পড়ুন:  এ বছরের বিজয় দিবস বিশেষ কারণে মহা আনন্দের দিন : ড. ইউনূস

সূত্র-সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে নেয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *